cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
কক্সবাজারে অপহরণের পর শিশু হত্যায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের রায় ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
এর আগে ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল মঞ্জুর এবং ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে হাইকোর্ট তিন আসামিকে খালাস দেন। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

হাইকোর্টে আসামি বাহাদুর মিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সালাম মামুন। আব্দুল খালেকের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির, মো.আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী। শুক্কুর মিয়ার পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী শাহনাজ হক। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

২০১৩ সালে ৪ জুলাই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছটার বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে হাজী হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয় মনিকে (৬) অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন সকাল ৭টার সময় হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পিছনে সাগর সৈকতে হৃদয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। একই বছরের ৬ জুলাই হৃদয়ের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুল খালেক, বাহাদুর মিয়া, আবদুস শুক্কুর ও জসিমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

৭ ডিসেম্বর আব্দুল খালেকের আইনজীবী শিশির মনির জানান, আব্দুল খালেক ও শুকুর মিয়া মিয়ানমারের নাগরিক। আসামি আব্দুল খালেক ও বাহাদুর মিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৫ সালের ৭ জুন কক্সবাজারের দায়রা জজ মো. সাদিকুল ইসলাম তালুকদার জসিমকে খালাস দিয়ে বাকি তিনজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে নিয়ম অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অপরদিকে, আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, প্রসিকিউশনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রমাণাদির বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেট কক্ষে আসামী আব্দুল খালেক ও বাহাদুর উভয়ই একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন। তাই এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আইনের চোখে কোনো জবানবন্দিই নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •