cbn  

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি :

বানোয়াট নোংরা ভিডিও দিয়ে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বান্দরবানের লামা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আমির হোসেন। মঙ্গলবার দিনগত রাত ৯টার দিকে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এ সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় বিএনপির উপজেলা, পৌরসভাসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে মো. আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিবাদ শুধুমাত্র গুটি কয়েক দুষ্কৃতি ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে। দলের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। দল লামা পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আমি তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু ১০ অক্টোবর দলের কেন্দ্রয় কমিটির কাছে লামা বিএনপির নামধারী ৫ জনের দায়ের করা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। আমি এ মিথ্যা অভিযোগের আইনী বিচার দাবী করছি। এর আগে ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন মো. আমির হোসেন। এতে বিবাদীরা হলেন- মো. আব্দুর বর, এম. রুহুল আমিন, মো. সাইফুদ্দিন, আবু তাহের ও আরিফ চৌধুরী। মিথ্যা ভিডিও প্রদর্শন করে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করার বিচার দাবী করে মামলায় ৩ কোটি টাকার মানহানির কথা উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উল্লেখিত ভিডিও চিত্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

সংবাদিক সম্মেলনে মো. আমির হোসেন আরো বলেন, আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করা, অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট নোংরা ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যেই এ সাংবাদিক সম্মেলন। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ছাত্রদল, ১৯৮৮ সাল থেকে যুবদল এবং ১৯৯২ সাল থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আমি স্বর্ণপদক প্রাপ্ত একজন সাবেক মেয়র ও লামা সদর ইউ.পি চেয়ারম্যান ছিলাম। গত পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ছিলাম। এজন্য লামা পৌরসভা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু মাম্যাচিং ও জাবেদ রেজার নোংরা, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদান করে আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে হয়েছে।

সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে লামা উপজেলা এবং পৌর বিএনপি ও সকল অঙ্গ-সংগঠনের মতামত নিয়ে পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসাবে আমাকে মনোনিত করেন। আমাকে লামা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করেন। আমার মনোনয়ন পত্র পৌর বিএনপির সভাপতি পদত্যাগ করায় সহ-সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছরোয়ার মৃত্যুবরণ করায় সহ-সাধারণ সম্পাদক ১ দেলোয়ার হোসেন রফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল ইসলাম মনোনয়ন পত্রে সুপারিশ করেন। মনোনয়ন পত্রের সাথে ৯টি ওয়ার্ড বিএনপি-র রেজুলেশন, পৌর বিএনপি ও উপজেলা বিএনপির স্বাক্ষরিত রেজুলেশন মনোনয়ন পত্রের সাথে বিএনপি-র কেন্দ্রীয় গুলশান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

আমি গত ১৫ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিবের নিকট দেখা করেছি। সেময় বান্দরবান জেলা বিএনপি’র বিতর্কিত কমিটির বিষয়ে আলাপ করেছি। জেলা কমিটির ২১ জন সদস্যের মধ্যে কমিটি থেকে ১৪ জন পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন, এ কমিটিতে আমি সহ-সভাপতি ছিলাম। মাম্যাচিং ও জাবেদ রেজা ষড়যন্ত্র করে তাদের সমর্থিত লোক দ্বারা আমাকে মনোনয়ন পত্র থেকে বঞ্চিত করেন। অযোগ্য প্রার্থী দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয় পাইয়ে দিতেই পিছনের দরজা দিয়ে গোপনে আতাত করে বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •