৩ সদস্যের তদন্তকমিটি গঠন

শহীদ বেদীতে গো-বর্জ্য!

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:১৬ , আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:২০

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


কাফি আনোয়ার:
ঐতিহ্যবাহি ও প্রাচীণ বিদ্যাপীঠ ঈদগাহ হাই স্কুলের শহীদ মিনারের বেদীতে শুকনা গো-বর্জ্যবস্তু ছড়িয়ে দেয়া কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এটি দেশের জাতীয় মুল্যবোধের পরিপন্থী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আঘাত এবং শহীদমিনার অবমাননা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীর্যক ও শ্লেষাত্মক ভাষায় নিন্দা ও ধিক্কার জানানো অব্যাহত রয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর সকালে কে বা কারা গোপনে স্কুল বন্ধ থাকার সুবাদে কক্সবাজার সদরের ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদমিনার পাদদেশে শুষ্ক গো-বর্জ্য সদৃশ বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছে।

পরে কে বা কাহারা সেই দৃশ্যধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনা মুহুর্তে ভার্চুয়াল জগতে নিন্দার ঝড় তুলে।

শহীদমিনার অবমাননার অভি্যোগে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভৎসনা, নিন্দা ও ধিক্কারের কটাক্ষপূর্ণ ভাষায় তুলোধুনো করা হয়।

বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জান্নাতের নজরে আসলে তিনি ত্বৃরিৎ পদক্ষেপগ্রহণ করে ওই গো-বর্জ্য সদৃশ্য শুষ্ক বস্তুগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সাথে সাথে সরিয়ে ফেলে শহীদ মিনার বেদী পরিষ্কার করা হয়েছে বলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান।

এ বিষয়ে খুরশীদুল জান্নাত বলেন, স্কুল এখন বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতিক্রিয়াশীলচক্র স্কুলের ভাবমূর্তি, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে ঘটনা তার একটি নমুনা।

ইতোমধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্তকমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী ৩দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এই অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনায় কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করে প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, শহীদ মিনারের মত জাতীয় ঐতিহ্য ও মর্যাদাপূর্ণ স্থাপনার মান, স্বকীয়তা এবং যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় স্কুল কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা না করার অনুরোধ জানান।

বিশ্বস্তসূত্রমতে, ঈদগাহ হাই স্কুল ক্যাম্পাস চারদিকে সুউচ্চ সীমানপ্রাচীর বেষ্টিত, ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ। ওই রকম নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শহীদমিনারের বেদীমূলে শুষ্ক গো-বর্জ্যের মত উচ্ছিষ্ট বস্তুর উপস্থিতি বা ছড়ানোর ঘটনাটি বিদ্বৎসমাজে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

অনেকে এটি বাঙ্গালি জাতিচেতনার উপর নেক্কারজনক অবমাননা, আবার কেউ কেউ স্কুলকর্তৃপক্ষের গাফলতি বা নিরাপত্তা শৈথিল্য বলে অভিযোগ করছেন। কেউ আবার এই ঘটনা সংঘটনে কুচক্রীমহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন আছে বলে ধারণা করছেন।

সাধারণ মানুষের অভিমত সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে এই ঘটনার নেপথ্য কুশীলবদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক, নয়তো এই অভিযোগের দায় স্কুলকর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

জানা গেছে , কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ মারুফ আদনান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে শহীদমিনার অবমাননার বিষয়টি অবগত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঈদগাঁহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাহুল নিনিতকে শহীদমিনারটি পরিষ্কার দেয়ার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা পেয়ে রাহুল নিনিতের নেতৃত্ব ছাত্রলীগ কর্মী ফয়েজ কামাল, আনোয়ার,আবিদ জোহান,রাকিব ফারদীন,ইয়াহিয়া,রিয়াদ’সহ একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী গো-বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে ধুয়ে মুছে শহীদমিনার বেদীটি পরিষ্কার করে ফেলেন।

রাহুল নিনিত জানান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ভাইয়ের নির্দেশে আত্মপ্রণোদিত হয়ে বাঙালী জাতিচেতনার শৌর্য-গৌরবের প্রতীক শহীদমিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। শহীদমিনারের প্রতি অশ্রদ্ধা, অসম্মান কিংবা অবমাননা ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী সহ্য করতে পারে না। আমরাও পারিনি। এমন নেক্কারজনক ঘটনা যে বা যাহারা ঘটিয়েছে রাহুল নিনিত তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সরেজমিনে শহীদ মিনার চত্বর পরিদর্শন করে কথিত গো- বর্জ্যের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •