cbn  

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা:
বান্দরবানের লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, গত ৫ বছরে তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করণসহ পৌরসভা ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৫২ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরো ৫৬৭ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন শতভাগ বাস্তবায়ন হলে লামা পৌরসভা আগামী ৫ বছরে মেঘা সিটিতে পরিণত হবে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে স্থানীয় কুটুমবাড়ী রেস্টুরেন্টের কনভেনশন হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলে তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাথোয়াইচিং মার্মা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত সদস্য শেখ মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহেদ উদ্দিন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নাধীন কাজগুলো হলো- জলবায়ু ট্রুাস্ট ফান্ডের ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় সোলার স্ট্রীট লাইট স্থাপন ও রিটেইনিং ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণ, শহর উন্নয়ন প্রকল্পের ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহের ১৩টি সড়ক ও গলিপথ আর.সি.সি’র মাধ্যমে উন্নয়ন, এ কাজে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো ৬ কোটি টাকার কাজ, এডিপি’র ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পৌর মার্কেট, পৌর ভবন সম্প্রসারণ ও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, টিআর প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকায় শত ভাগ মসজিদ,মন্দির, ক্যাং, গীর্জা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে হোম সোলার সিস্টেম প্রদান, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি গাড়ি পৌসভার সম্পদ ভান্ডারে যুক্ত, ৭৫০টি পরিবারের মাঝে রিং স্লাব সরবরাহ করা হয়। ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ, ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাজার সমিতি অফিস ও গণশৌচাগার নির্মাণ, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গজালিয়া জীপ স্টেশন ও সমিতি অফিস নির্মাণ, ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কলাবুড়া পাড়া রাস্তা নির্মাণ, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী মসজিদ নির্মাণ, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী মাদ্রাসা নির্মাণ, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে জি.পি.এস এর মাধ্যমে লাইনঝিরিতে পানি সরবরাহ চালু, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে শীলেরতুয়া বৌদ্ধ বিহারের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চাম্পাতলী বৌদ্ধ বিহারের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারী মাতামুহুরী কলেজের উন্নয়ন, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে রেস্ট হাউস, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ডরমেটরী নির্মাণ ও ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি সিঁডি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটা পাহাড় জামে মসজিদ, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চেয়ারম্যান পাড়া জামে মসজিদ, ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে এতিম খানা, ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস টার্মিনাল কবরস্থানের বাউন্ডারী ওয়াল, ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লাইনঝিরি কবরস্থানের বাউন্ডারী ওয়াল ও ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাগল খাইয়া মসজিদ উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার কেন্দ্রীয জামে মসজিদ, ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মার্কাজ মসজিদ নির্মাণ, এ কাজে আরো ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পশ্চিম রাজবাড়ী চোরোবিল রাস্তা ও ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দারুল কাউছার মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শীলেরতুয়া গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চাম্পাতলী রাস্তা নির্মাণ, ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক বিলছড়ি-লাইনঝিরি রাস্তা নির্মাণ, ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে লামামুখ-লামা বাজার রাস্তা, ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটা পাহাড়ের নীচ থেকে কুড়ালিয়ারটেক হয়ে লামামুখ রাস্তা, ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার থেকে মিশন অভিমুখী রাস্তা, ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপাল বাবুর মোড় হতে টি.টি এন্ড ডিসি রাস্তা ও ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি সিঁড়ি নির্মাণ কাজ চলছে। ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক বিলছড়ি রাস্তা ও লামা বাজার নদী ভাঙ্গন রোধে জিও টিউব স্থাপন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার এলাকা নদী ভাঙ্গন রোধ করণ, ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শীলেরতুয়া এলাকা নদী ভাঙ্গন রোধ করণ ও ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার নদী ঘাটে সিঁড়ি ২টি উন্নয়ন কাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি গ্রোথ স্টোর, ১৮১টি গভীর নলকূপ, ৭৯টি রিং ওয়েল ও ১টি ছড়া উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এটি বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার ৬ হাজার পরিবার সুপেয় পানি সুবিধা পাবেন। ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ, ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে লামা বাজার গোপাল বাবুর মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে ৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ সহ ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য জাপানি উন্নয়ন সংস্থার কাছে প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫০ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •