রাশেদ মোহাম্মদ আলী :

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামের সহযোদ্ধা প্রিয় তৈমুর ভাই এখন না ফেরার দেশে!

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেইসবুক খুলতেই দেখতে পেলাম ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন সহযোদ্ধা তৈমুর আহমেদ এর মৃত্যু সংবাদ। এটি আমার এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনা ও কষ্টের সংবাদ ছিল। কারণ চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ জিয়ার আদর্শ প্রতিষ্ঠায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করার জন্য একসাথে কাজ করেছি। ৮০ থেকে ৯০ দশকে চট্টগ্রাম মহানগরে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা একসাথে লড়াই করেছি। সংগ্রাম করেছি। তৈমুর ভাই ছিলেন সাহসী একজন ছাত্রনেতা। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। রাজনৈতিক ও আদর্শিক কমিটমেন্টের জায়গায় তিনি অবিচল এবং অটল।রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচী বাস্তবায়নের কতনা ঝুঁকি নিতে হয়েছে আমাদের। সেইদিনের সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে সৈয়দ আলমগীর কবির, সাখাওয়াত জামাল দুলাল, এস.এম. ইকবাল হোসেন, গাজী শাহাজাহান জুয়েল, আব্দুস সাত্তার, আবু সুফিয়ান, মনজুর রহমান চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, রফিকুল ইসলাম খোকন, শেখ মহিউদ্দীন, ইফতেকার মহসীন, মঞ্জুর উদ্দিন, নাজিমুর রহমান, মোর্শেদ আলম, গিয়াস উদ্দিন, মালেক ফারুকী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ূন, মাহফুজুর রহমান, ইসহাক মির্জা, কামাল উদ্দিন, তারিকুল্লাহ দিপু, আবু আহম্মদ, মরহুম মোহাম্মদ আলী, শাহেদ বক্স, হারুন রশিদ, মরহুম জোনায়েদ হোসেন নিপু, মেহেদী হাসান, কুদরত উল্লাহ শিপু, সহ সহযোদ্ধা অনেকের নাম আজকে বেশী বেশী মনে পড়ছে।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ছিলেন এস.এম.ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুস সাত্তার (বর্তমানে চট্টগ্রাম আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত)। এই ইকবাল-সাত্তার কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন তৈমুর আহমেদ। অত্যন্ত সদালাপী, সজ্জন, সাদা মনের আড্ডাবাজ ছিলেন তিনি। তৈমুর ভাই ছিলেন একদম ভেজাল ছাড়া একজন নিখাদ শহীদ জিয়ার আদর্শিক চেতনায় উদ্ভাসিত, পরীক্ষিত একজন রাজনীতিক। দল ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। তিনি দল ও আদর্শের জন্য অনেকবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। আমার চেয়ে বয়সে একটু বড় ছিলেন। তবে আমরা ছিলাম বন্ধুর মত। ভাইয়ের মত।

তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য, ছাত্রদল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন সংগঠক।

জানতে পারলাম প্রিয় তৈমুর ভাই দূরারোগ্য ক‍্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গতকাল বুধবার রাত নয়টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। তিনি আমাদের মাঝে আর কখনো ফিরে আসবেন না। শহীদ জিয়ার আদর্শিক একজন সন্তানকে হারিয়ে দল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

সহযোদ্ধা তৈমুর আহমেদ এর মৃত‍্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহ সুবহানু তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমীন।

রাশেদ মোহাম্মদ আলী
সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক,
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,
চট্টগ্রাম মহানগর।
এবং
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
কক্সবাজার পৌর বিএনপি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •