মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার মহকুমা থেকে জেলায় পরিণত হয় ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ। এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় কক্সবাজারকে চট্টগ্রাম জেলার আওতাধীন একটি মহকুমা থেকে জেলায় রূপান্তর করা করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা হওয়ার পর থেকে জেলার সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তার এ পর্যন্ত ২২ জন জেলা প্রশাসক কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করেছেন। কক্সবাজারের ২৩তম জেলা প্রশাসক হিসাবে বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর নিয়োগ পেয়েছেন মোঃ মামুনুর রশিদ। তিনি বর্তমানে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বে আছেন। প্রশাসনিকভাবে কক্সবাজার একটি ‘এ’ শ্রেণির জেলা।

১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজারের প্রথম জেলা প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পান কে.এইচ ফজলুর রহমান। তিনি ১৯৮৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে কে.এইচ ফজলুর রহমান সরকারের যুগ্মসচিব হিসাবে শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) হিসাবেও কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় ডিসি হিসাবে মোশারফ হোসাইন ১৯৮৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯৮৭ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয় ডিসি হিসাবে এম.এ কামাল ১৯৮৭ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ১৯৯০ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। চতুর্থ ডিসি হিসাবে এম.সি বর্ম্মন ১৯৯০ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৯১ সালের ১৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। পঞ্চম ডিসি হিসাবে দাউদ উজ জামান ১৯৯১ সালের ১৮ মে থেকে ১৯৯২ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ষষ্ঠ ডিসি হিসাবে মোঃ এনামুল কবির ১৯৯২ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সপ্তম ডিসি হিসাবে শেখ মোহাব্বত উল্লাহ ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। অষ্টম ডিসি হিসাবে আলী ইমাম মজুমদার ১৯৯৬ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ১৯৯৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম ডিসি হিসাবে মোঃ নুর হোসাইন ১৯৯৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। দশম ডিসি হিসাবে পুলিন বিহারী দেব ১৯৯৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১১তম ডিসি হিসাবে মোশারফ হোসাইন ভূঁইয়া ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট থেকে ২০০১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১২তম ডিসি হিসাবে মোঃ মতিয়ার রহমান ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০০৩ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৩তম ডিসি হিসাবে সাইফুদ্দিন আহমদ ২০০৩ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৪তম ডিসি হিসাবে মোঃ হাবিবুর রহমান ২০০৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৫তম ডিসি হিসাবে মোঃ আমিনুল ইসলাম ২০০৬ সালের ২ আগস্ট থেকে ২০০৭ সালের ১৩ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৬তম ডিসি হিসাবে সাজ্জাদুল হাসান ২০০৭ সালের ১৩ মে থেকে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৭তম ডিসি হিসাবে মোঃ মনজুর আলম ভূইয়া ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮তম ডিসি হিসাবে মোঃ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯তম ডিসি হিসাবে মোহাম্মদ জয়নুল বারী ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ২০১২ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০তম ডিসি হিসাবে মোঃ রুহুল আমিন ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। ২১তম ডিসি হিসাবে মোঃ আলী হোসেন ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ কক্সবাজারের ২২তম ডিসি হিসাবে মোঃ কামাল হোসেন ২০১৮ সালের ৪ মার্চ যোগদান করেন। বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২ বছর ৯ মাস ১১তম দিন দায়িত্ব পালনকালে তিনি কক্সবাজার থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হিসাবে বদলী হন।

কক্সবাজারে ডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন কর্মকর্তার মধ্যে তৃতীয় ডিসি এম.এ কামাল সর্বোচ্চ সময় ৩ বছর ২ মাস ২৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, সর্বনিম্ম সময় হিসাবে ১১তম ডিসি মোশারফ হোসাইন ভূঁইয়া মাত্র ৩ মাস ৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

কক্সবাজারে ডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৮তম ডিসি আলী ইমাম মজুমদার এবং ১১তম ডিসি মোশারফ হোসাইন ভূঁইয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ মন্ত্রীপরিষদ সচিব হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •