সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে রামু রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন,বিজয় দিবস র‌্যালী, খতমে কুরআন মজীদ ও মহান বিজ বায় দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
মাদ্রাসার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র শিক্ষক মুফতি দেলোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন মাদ্রাসার স্বনামধন্য পরিচালক আলহাজ্ব মাওলানা মুহছেন শরীফ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা মহান আল্লাহর অপার নিয়ামত। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর অন‍্যায় ও জুলুম হতে আমরা স্থায়ীভাবে মুক্তি লাভ করি। পবিত্র কুরআনের সূরা ‘নসরে’ স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হয়েছে। উক্ত সূরায় নবীজি (সা) কে উদ্দেশ্যে করে মহান আল্লাহ বলেন , যখন আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয় আসবে এবং দেখবে লোকেরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে তখন তুমি আল্লাহর প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর নিশ্চয় তিনি বান্দাদের তাওবা গ্রহনকারী’। সুতরাং ভোগবিলাস ও অহংকার প্রদর্শনের মাধ্যমে নয় বরং আল্লাহ নির্দেশিত পদ্ধতি অবলম্বন করেই আমাদেরকে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করা উচিত এবং এতে করেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে এবং তাঁদের আত্মা কবর জগতে শান্তি লাভ করবে।
মাওলানা মুহছেন শরীফ আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা ও অবদান অনস্বীকার্য। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন ঐতিহাসিক নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে অতিশয় শ্রদ্ধা করতেন এবং সব বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ একটি শ্রেণী ওলামায়ে কেরামকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্বেরাত, হামদ-নাত, ইসলামী সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতা ইত‍্যাদি বিষয়ে বর্নাঢ‍্য উপস্থাপনা পেশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন, নজমদ্দীন জিয়াদ, আতাউল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, ছানাউল্লাহ, নেয়ামত উল্লাহ, আব্দুর রহমান, জামাল উদ্দিন নূরুল আবছার, ফোরকান, রাকিবুল হাসান, মাহিয়া, আখতার হোসাইন, হাসান, সাইফুল ইসলাম, জুবায়ের উদ্দিন, ইমরান, ইয়াসিন আরাফাত, মুহাম্মদ ও জাহেদুল আযম।
মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল খালেক কাওছার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাদ্রাসার সকল শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও এলাকার মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক ও মুহাদ্দিস মাওলানা শফিউল আলমের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদানের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •