cbn  

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গফুর মোল্লা ও তার অধিন কর্মকর্তাদের নিরব ভূমিকায় অসাধু ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে নিধন, রিজার্ভ ভূমিতে পাকাঘর নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন নিধন, করাতকল তৈরি ও সংরক্ষিত বনে ইটভাটা তৈরি করার পাশাপাশি বনের গাছও নির্বিচারে উজাট করা হচ্ছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তার নিরবতার কারণে পাহাড় যখন ধ্বংসের পথে তখন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার ও উপজেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে পাহাড় খেকো ও ইটভাটায় জরিমানার পাশাপাশি সংরক্ষিত বনে করাতকল না বসানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও প্রতিদিন পিকআপ ও ট্রলি ভর্তি করে সামাজিক বনায়ন নিধন করে গাছ পাচার করলেও কার্যত কোন ধরণের প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় সেগুন, গর্জন, জারুল, মেহগনি, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

বারবাকিয়া, টইটং ও শিলখালী পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, অল্প কিছু পরপর সংরক্ষিত বনভূমিতে নতুন ভাবে গড়ে তুলছেন বসতি। এমনকি বড় বড় দালাল তৈরি করেছেন অবৈধ পাহাড় দখলকারীরা। নতুনভাবেও ওঠছে দালান। রেঞ্জ কর্মকর্তার নাগের ডগায় এমন বসতি স্থাপন হলেও কার্যত কোন ধরণের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি তিনি। প্রতিটি পয়েন্টে সংরক্ষিত পাহাড় স্কেভেটর দিয়ে মাঠি কেটে নিধন করে নিয়েছে পাহাড় খেকোরা। সংরক্ষিত বনের ১০কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি করাতকল চলছে মাসিক মাসোহারায়। তিনটি ইটভাটা রয়েছে সংরক্ষিত বনের তিন কিলোমিটারের ভিতরে। প্রতিদিন বন উজাট করে গাছ পুড়ানো হচ্ছে এসব ইটভাটায়।

এছাড়াও আরবশাহ বাজার, টইটং বাজার ও পেকুয়া বাজারের বেশ কয়েকজন অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীসহ টইটংয়ের মোহাম্মদ আলম প্রকাশ মাহমদ মাঝি রেঞ্জ কর্মকর্তা গফুর মোল্লার সাথে আতাত করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করছে পাহাড়। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক পিকআপ ও ট্রলি দিয়ে পরিবহণ হচ্ছে এসমস্ত পাহাড়ি গাছ। এমনকি সেগুন আর গর্জনসহ মাদার ট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ চকরিয়ার আজিজনগর, ফাইতং ও ডুলহাজারা থেকে বড় বড় পিকআপ করে পেকুয়ার উপর দিয়ে পাচার হলেও দেখেও না দেখার ভান করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। যার কারণে পাহাড় বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের এরিয়ায় অবৈধ করাতকল বন্ধ করার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম অভিযোগ দায়ের করিলে রেঞ্জ কর্মকর্তা গফুর মোল্লা তড়িগড়ি করে ১৫ দিনের ভিতর করাতকল বন্ধে নোটিশ প্রদান করেন। অবৈধ করাতকল ব্যবসায়ীরা নোটিশ পাওয়ার পর রেঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে তা ম্যানেজ করে নেন। যার কারণে ১৫ দিন পার হলেও করাতকল বন্ধে কোন ধরণের প্রদক্ষেপ নেয়নি রেঞ্জ কর্মকর্তা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা গফুর মোল্লা বলেন, লোকবল সংকট তাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারছিনা। নতুনভাবে নির্মাণ হওয়া বসতির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। করাতকল বন্ধে নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় সুরহা করতে হবে। আর ইটভাটা সংরক্ষিত বনের ভিতর ইটভাটা বসানো হলেও ইটভাটা বসানোর জন্য তারা অনুমতি নিয়ে থাকেন জেলা প্রশাসক থেকে। কোন ধরণের মাসিক মাসোহারা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •