জাফর আলম জুয়েল
ঈদগড় বন বিভাগ নীরব কেন? জনগনের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন রাত হলেই নেমে আসে গাছ পাচারের মহোৎসব। এ ব্যাপাের বন বিভাগের লোকজনের তেমন কোন তৎপরতা দেখছে না বলে জানিয়েছ এলাকাবাসী।
স্থানীয় চেয়ারম্যান এর সুপারিশ ক্রমে রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্লিয়ারেন্স দিলে ওই গাছ পাচার করার নিয়ম রয়েছে, আসলে ঐ নীতিতে কি গাছ পাচার হচ্ছে?
প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ গাছগুলো হচ্ছে স্বপ্নের এবং বহু কাঙ্খিত সামাজিক বনায়ন উপকার ভোগীদের গাছ। স্থানীয় বন বিভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাঠ পাচারে যথেষ্ট সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।গত ১ সপ্তাহ সহ গত ১৪-১৫ ডিসেম্বর রাতের প্রথম প্রহরে ডাম্পার এবং অন্যান্য গাছ পরিবহনের বাহন দিয়ে প্রায় সাত আট গাড়ি বাইশারী ঈদগড়-ঈদগাঁও ও বৌ-ঘাট ঈদগড়-ঈদগাঁও এবং সাপের গারা রোড দিয়ে নির্দ্বিধায় গাছ পাচার করে নিয়ে যায়। যাহা কারো দেখভালের তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় বন বিভাগ ওই সব পাচার কারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে কাঠ পাচারের ব্যাপারে নীরব থাকেন। যা মাঝে মধ্যে দেখা যায়, ঈদগড় বাজারে আশেপাশে ও দক্ষিণ পাশে বৌ -ঘাট রোডের মাথায় প্রত্যাহার কৃত বন চেক পোস্ট সংলগ্ন একটি কুলিং কর্ণার দোকানে বসে কাঠ পাচারের টাকা লেন দেন করা হয়। যা দুদক, গোয়েন্দা ও ডি বি গোপনে তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। এখানে নিয়ম রয়েছে ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বৈধ টিপির মাধ্যমে কাঠ পাচার করা যেতে পারে। দায়িত্বরত বন বিভাগের কর্তৃপক্ষরা ওই সব নিয়ম-নীতির মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। অনেকে বলে থাকেন অবৈধ ভাবে গভীর রাতে গাছ পাচারের সহযোগিতা করায় জবাবদীহিতা কি, তাদের কাছে নেই? এলাকার সচেতন মহল মনে করেছিল ঈদগড় রেঞ্জে নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত বন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর হয়তো সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ঈদগড়ের গভীর বনানঞ্চল সহ সামাজিক বনায়ন রক্ষা করবেন। কই না তো!!হীতে বিপরীত গাছ পাচারের মহোৎসবে নেমে পড়েছেন এরা নিজেরাই। অনেকেই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন এদের খুটির জোর কোথায়? কাঠ পাচারের বিষয়ে সদ্য যোগদানকৃত রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে বেশ কয়েকবার এই প্রতিনিধির সাথে মোটো ফোনে আলাপ হলে তিনি গাছ পাচারের ব্যাপারে বিপরীত অবস্থানে থাকার কথা জানালেও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। উল্টো নির্দ্বীধায় গাছ পাচার অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি সি সিএফ মহোদয় ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সহ আমলে নিয়ে গাছ পাচারে সুবিধা দেওয়া বন বিভাগের কর্তৃপক্ষ যারা জড়িত রয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার। অন্যথায় অচিরেই ঈদগড়ের গভীর বনাঞ্চল ও উপকার ভোগীদের দেওয়া সমাজিক বনায়নের অধিকাংশ গাছ সাবাড় হয়ে যাবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •