cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘সরকার কখনোই নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। ফেসবুকে যেসব উসকানি চলছে সেগুলো নিয়ে আমাদেরকে সজাগ হতে বলেছেন তারাই। কেউ যেন কোনও প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, আলেম সমাজ সে ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ। তারা বলেছেন কোনও রকম আন্দোলন তারা করবেন না। তাদের দাবির মধ্যে যদি সংবিধানবিরোধী কোনও দাবি থাকে, তাহলে সেগুলো মানার সুযোগ নেই। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। আবার কারও ধর্মীয় সেন্টিমেন্টেও আঘাত করবো না। নতজানু রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না।’

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মকে অবজ্ঞা করবো না। আমরা ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিধান মেনে চলছি এবং চলবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করেন এবং তাহাজ্জুদ নামাজও আদায় করেন। তারাও বিশ্বাস করেন তাদের দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে শেষ হবে। আলোচনার একটা ফলপ্রসূ ফলাফল আপনারা দেখবেন।‘

মন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ১২ জন আলেমের প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় ফলপ্রসূ হয়েছে। ওই বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও ধর্ম সচিব উপস্থিত ছিলেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ ডিসেম্বর মাওলানা মাহমুদুল হাসানের ডাকে আলেমরা একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে তারা বিস্তারিত আলাপ করেছিলেন। দেশের বর্তমান অবস্থাসহ অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের করণীয় বিষয়েও আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠির কপি আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনার জন্যই সোমবার রাতে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। একটা ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আরও আলোচনা হবে। আমরা মনে করি এই আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সব বিষয়ের সমাধান করতে পারবো। আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবো।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারাও স্বীকার করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনি একজন খাঁটি মুসলমান। তিনি তার ঈমানি দায়িত্বগুলো পালন করে যাচ্ছেন। গতরাতে আলোচনায় এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আমরা আরও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো শেষ করতে পারবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা যেটা শুরু হয়েছে সেটা চলবে। কারণ, আলোচনার একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা এই আবেদন দেখেছে যে, কেউ যেন রাস্তায় নেমে ভাঙচুর না করে। কেউ যেন রাস্তায় এসে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে। এই বিষয়ে তারা আমাদের সঙ্গে ঐকমত্যে এসেছেন। ফেসবুকে নানা ধরনের উত্তেজনা ছড়ানোর যে প্রয়াস চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। আমি সেটাই বলছিলাম যে অনেক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কেউ যেন সরকারবিরোধী আন্দোলনে না করে, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

মুজিব মিনার তৈরিসহ চিঠিতে তাদের ৫টা প্রস্তাব ছিল। সেগুলো তারা আলোচনার মাধ্যমেই শেষ করতে চান। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই ফয়সালা করতে পারবো।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি, কোনও কিছুতেই আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবো না। ভাস্কর্য যেখানে যেভাবে আছে সেগুলো থাকবে কি থাকবে না, সব বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করবো। ভাস্কর্য কেন করা হয়। এটাকে পূজা করা হয় না। আমরা এটাও বলেছি নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে ধরে রাখতে চাচ্ছি। আমরা আমাদের লাইনে কথা বলেছি। তারা ধর্মের লাইনে কথা বলেছেন। সব বিষয়ই আমরা সুন্দর সমাধানে আসতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।’

মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে একসঙ্গে বসে মতবিনিময় হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •