এ.এম হোবাইব সজীব, মাতারবাড়ী থেকে ফিরেঃ
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী -রাজনীতি এখন এক জমজমাট ব্যবসা।
এ দেশে একটা সময় ছিল যখন রাজনীতিবিদরা গৌরবের সঙ্গে পেশা হিসেবে পরিচয় দিতেন রাজনীতিকে। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। প্রবীন ও নবীন অনেক পেশাদার রাজনীতিবিদও সরাসরি বিভিন্ন ব্যবসা করছেন। আবার অনেকে নামে বেনামে স্বজনদের সঙ্গে ব্যবসায় সংযুক্ত আছেন। মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একই অবস্থা। এমনকি ডান বাম সব ধরনের নেতাই এখন ব্যস্ত ব্যবসায়। কেন্দ্রীয় কমসূচী পালন করতে গেলে সব দলের লোকজনই একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দিতে পারলে তাদের কাজ শেষ। এ হচ্ছে বর্তমান রাজনৈতিক হালচাল।
মাতারবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ফেসবুক ও পোস্টারের রাজনীতিতে সরব জনপদ! নৌকা নির্ভর মৌসুমি নেতারা নৌকার টিকেট না পেলে অনেকেই সরে দাঁড়াবেন। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। কিন্তু জন নির্ভর হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যে নৌকার টিকেট না জুটলেও নির্বাচনে অংশ নিবেন এমনটি মনে করছেন মাতারবাড়ীর বৃহত্তর জনগোষ্ঠি ও সাধারণ ভোটাররা।
জানাগেছে,সম্ভ্যব্য চেয়ারম্যান পদে অাওয়ামীলীগ তথা নৌকা প্রতীক চেয়ে ডজন খানেক নবীন-প্রবীণ মিশ্রিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা এবং তদবির চালিয়ে গেলেও আলোচনায় রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন।
আওয়ামীলীগ থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুল, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জি.এম ছমি উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এস,এম আবু হায়দার, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য মশরফা জান্নাত, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য মাস্টার রুহুল আমিন,উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উল্লাহ সেলিম, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি অাবদু সাত্তার,
বিএন পি থেকে রফিকুল ইসলাম ভেন্ডার ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এম,কম। এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোস্তাক অাহমদের পুত্র অধ্যাপক সেলিম, নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন বাবর চৌধুরী বলে শোনা যাচ্ছে। বলতে গেলে সোনার হরিণ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান অনেকে। তবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন চারজন। তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জি.এম ছমি উদ্দিন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক রুহুল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস,এম আবু হায়দার।
জানাযায়,ক্ষমতাসীন বা বিরোধীদলে যোগ দিয়ে রাজনীতির খাতায় যোগ হচ্ছেন ব্যবসার জন্য তবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন রাজনীতি। ছাত্র, যুব ও সকল পর্যায়ের রাজনীতির একই চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন দলের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার পর পাল্টে গেছে কারও কারও পেশাও। ব্যবসায়ী থেকে শিল্পপতি। আগে ব্যবসা না করলেও শীর্ষ পদে আসীন হয়ে এখন শিল্পপতি। নামে বেনামে রয়েছে তাদের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান। আগে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করতেন জনগনের কল্যানে।
উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতাদের কারনে যারা অতীতে জেল জুলমের শিকার ও তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে তাদের চেয়ার দখলে নিয়েছে মৌসুমি নেতারা বলে জনশ্রুতি আছে মাতারবাড়ীতে। এখন সবাই রাজনীতিবিদ হয়েছেন নিজেদের কল্যানের জন্য। রাজনীতিকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করছেন। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া প্রায় সবাই প্রত্য ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকবর্গ জানান, মাতারবাড়ীর অধিকাংশ রাজনীতিকই ব্যবসায়ী। তারা রাজনীতি করছেন ব্যবসায় কিছু সুযোগ সুবিধা পেতে আবার অনেকে শখের বসে রাজনীতিতে জড়িয়ে ব্যবসায়ী হয়ে যান। পুর্বের আর এখন রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেক তফাত।
একে একে দুর্বৃত্তদের হাতে রাজনীতি চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিকে একদল লোক ব্যবসা হিসেবে নেবে। অনেকে মনে করেন, রাজনীতিবিদরা ঠেকায় পড়ে ব্যবসায়ী হয়ে যান। টাকা দেখাতে না পারলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া যায়না। নেতাকর্মী লালন পালন করা যায় না। এ কারনে ব্যবসাকে আড়াল করে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়ান অনেক রাজনীতিবিদ। স্বাধীনতা পুর্ব সময়ে যারা রাজনীতিকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন তাদের সমাজে একটা মর্যাদা ও সম্মান ছিল। কারন তারা দেশের জন্য কাজ করেছেন নি:স্বার্থভাবে।
এদের সংখ্যা এখন কম। অপরদিকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পেশাগত রাজনীতিবিদ নয়। তারা ব্যবসায় রাজনীতির আড়ালে নয়ছয় এর হিসাব করেন দুর্নীতির মাধ্যমে। অনেক লোকদের সংখ্যাই এখন বেশি। রাজনীতির মাঠ এখন এদের দখলে। একারনে সমাজে অবয় দেখা দিচ্ছে। রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। আগে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধাবোধ ছিল তা এখন হারিয়ে গেছে। আগে জেলখানায় যাওয়া ছিল সম্মানের। এখন জেলখানায় যাওয়া হয় দুর্নীতির লুটপাটের টাকার খতিয়ান বগলে নিয়ে। কারন এখন দুর্নীতির কারনেও রাজনীতিবিদরা জেলখানায় যাচ্ছেন।
রাজনীতির সুস্থ ধারা ব্যাহত হচ্ছে দেশে বারবার। যারা জনগনের প্রতিনিধি তারা সম্মানের পাত্র হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যখন দেখি মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জনগনের ধারে কাছে না গিয়ে নিজেদের ব্যবসা বানিজ্য নিয়েই ব্যস্ত। নির্বাচন এলেই এরা মানবদরদী ও জনদরদী হলেও সারা বছরে তাদের ছায়াও জনগন দেখে না। অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নানাভাবে তদবিরে মনোনয়ন লাভ ও নির্বাচনে কালো টাকা ছড়িয়ে দলীয় ভাবমুর্তিকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়ে যাওয়ার পর আবার ফিরে যান যান পুরোদস্তর ব্যবসায়ী হিসেবে। অর্থাৎ তিনি তার ভোটারকে চেনেনই না। এখন মাতারবাড়ীতে শুরু হয়েছে, ব্যানার, পোষ্টার ফেসবুকের রাজনীতি।
পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে মাতারবাড়ীর প্রত্যন্ত জনপদ। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার ব্যানার হেড স্লোগান, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি লাগিয়ে ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও পোষ্টারে রঙ্গিন করে যেন নির্বাচনি আমেজ ফিরিয়ে এনেছিল মৌসুমী নেতারা। নিজেকে জানান দিতে পরিচিতি করতেও বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি ব্যবহার করছে এসব আশির্বাদপুষ্ট খায়েশ হওয়া নেতারা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে টাকার ছড়াছড়ি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারনায় মাতারবাড়ীতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদল এর চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহীরা। এখন প্রায় ৩ মাস নির্বাচনের সময় থাকলেও মাঠে নেমে পড়েছেন জনদরদী, মানবদরদী ও সমাজ সেবক হয়ে। ক্ষমতাসীন দল মধ্যে চাঁদাবাজ, বুর্জোয়া, অসৎ ব্যক্তি, ধান্ধাবাজদেরও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •