মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলা বাতিল চেয়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা রিভিশন আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে। রোববার ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল রিভিশনটির গ্রহনযোগ্যতা আছে কিনা-এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় দীর্ঘ দেড় ঘন্টার শুনানী শেষে আবেদনটি খারিজ (Summary reject) করে দেন।

তবে রিভিশন আবেদনকারীর আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ সালাহ উদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল করবেন বলে সিবিএন-কে জানিয়েছেন ।

নিহত মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত নম্বর-৩ (টেকনাফ) এর বিজ্ঞ বিচারক তামান্না ফারাহ এর আদালতে দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় পদ্ধতিগত আইনী ত্রুটি আছে দাবি করে উক্ত মামলাটি বাতিল চেয়ে ক্রিমিনাল প্রসিডিওর এর ৪৩৫/৪৩৯ ধারায় প্রধান আসামী লিয়াকতের পক্ষে গত ৪ অক্টোবর কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এর আদালতে রিভিশন আবেদনটি ফাইল করা হয়েছিলো। সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলার মামলার প্রধান আসামী লিয়াকত আলী’র পক্ষে রিভিশন আবেদনটি দায়ের করা হয়।
রিভিশনটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলা আদালতে বিচারকার্য চলতে আর কোন বাধা থাকলোনা।

রিভিশন আবেদনটি সিনহা হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্র পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম, এডভোকেট মাহবুবুল আলম টিপু, এডভোকেট ফারহানা এবং রিভিশন আবেদনকারী লিয়াকতের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মাসুদ সালাহ উদ্দিন, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মোঃ ফারহান শাহরিয়ার বিন নুর, এডভোকেট মাহমুদুল হক (মাহমুদ) শুনানি করেন। খারিজ হওয়া ফৌজদারী রিভিশন আবেদনটির নম্বর হলো : ১৮৯/২০২০ ইংরেজি।

গত ৩১ জুলাই রাত্রে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের টেকনাফের বাহারছরা মারিশবনিয়া এপিবিএন চেক পোস্টে পুলিশের গুলিতে খুন হন মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান। পরে গত ৫ আগস্ট সিনহা’র বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস (৪২) বাদী হয়ে পুলিশের চাকুরী থেকে বরখাস্ত হওয়া লিয়াকত আলী (খারিজ হওয়া রিভিশন আবেদনের বাদী), সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, নন্দলাল রক্ষিত, সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া সহ ৯জনকে আসামী করে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। যার সিআর মাললা নম্বর : ৭০৩/২০২০, টেকনাফ থানার মামলা নম্বর : ৯/২০২০, জিআর নম্বর : ৭০৩/২০২০ ইংরেজি (টেকনাফ)।

এদিকে, রোববার ১৩ ডিসেম্বর সকালে সিনহা’র হত্যা মামলায় ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার দায়েরকৃত চার্জসীট’কে অবৈধ বলেছেন, প্রধান আসামী লিয়াকত আলীর পক্ষে করা রিভিশন আবেদনের আইনজীবী মাহমুদ সালাহ উদ্দীন। রোববার সিনহা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) র‍্যাব-১৫ এর এএসপি খায়রুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জসীট) দাখিল করার পর সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি করেন-সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মাসুদ সালাহ উদ্দীন। তিনি আরো দাবি করেন, এই মামলার আসামীদের রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবাবন্দীও উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •