মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:
কক্সবাজারে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচী সুষ্টু বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এনজিও সংস্থা সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি-সাকো এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের একটি জনকল্যাণমূখী উদ্যোগ পেকুয়ায় ভেস্তে যেতে বসেছে। আর মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় এনজিও সাকো এ অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে বলে সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পেকুয়ায় ভিজিডি কর্মসূচী সুষ্টু বাস্তবায়ন ও ভিজিডির উপকাভোগীদের জীবন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য চূক্তিবদ্ধ হন এনজিও সাকোর সাথে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯ ও ২০২০ এই দুই বছরে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিনের ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় থাকা ১ হাজার ৩শ ৯৬ জন দু:স্থ ও অসহায় নারী উপকারভোগীদের বিভিন্ন জীবন দক্ষতা কর্মসূচী বাস্তবায়ন, ভিজিডির উপকার ভোগীদের কাছ থেকে মাসিক কিস্তি উত্তোলনের জন্যই মূলত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা ওই এনজিওর সঙ্গে লিখিত চুক্তিবদ্ধ করে। অভিযোগ রয়েছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক নির্দেশিত ম্যানুয়েল অনুসারে পেকুয়া উপজেলায় এনজিও সাকো ভিজিডির কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেনি। নির্দিষ্ট সময়ে এনজিও সাকো পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের ভিজিডি উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিস্তিও উত্তোলন করতে করেনি। স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের গ্র্রাম পুলিশ ও সচিবরা ভিজিডির উপকারভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করে জমা রেখেছেন ব্যাংকে। দুই বছরের জন্য এনজিও সাকো পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দায়িত্ব নিলেও পেকুয়ায় তাদের কোন কর্মসূচী দৃশ্যত চোখে পড়েনি। উপকারভোগীদের জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষন পাননি উপজেলার সাত ইউনিয়নের ভিজিডির উপকারভোগীরা। চলতি ডিসিম্বের মাসে ভিজিডি কর্মসূচীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এছাড়াও ২০১৪-১৫ অর্থ বছরেও কক্সবাজারের খুরস্কুলের বিতর্কিত এনজিও ‘আজাদ’ পেকুয়া উপজেলায় অনুরূপভাবে ভিজিডি কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও র্দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। তখনকার সময়ে পেকুয়ায় কর্মরত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ওই এনজিওর কর্মকর্তারা ম্যানেজ করে দায়সারাভাবে কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন।

জানা যায়, ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় থাকা উপকারভোগীদের মাসে অন্তত ৪টি জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের নিয়ম রয়েছে। ওসব কর্মশালার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দও রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

গোপন সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের ভিজিডির উপকারভোগীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে একাধিক স্বাক্ষর নিয়ে কর্মসূচী আয়োজন করেছে মর্মে ভূঁয়া বিল ভাউচার তৈরী করে ওই এনজিও অনিয়ম ও র্দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন ইউপি সচিব অভিযোগ করেছেন, এনজিও সাকো পেকুয়া উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে দায়িত্ব নিলেও এখানে তাদের কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। সাত ইউনিয়নের সাতজন মাঠকর্মী নিয়োগ করে কাজ বাস্তবায়নের নিয়ম থাকলেও তাও মানা হয়নি।

মগনামা ইউনিয়নের কয়েকজন ভিজিডির উপকারভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে যথাসময়ে কিস্তিও উত্তোলন করেনি এনজিও সাকোর মাঠকর্মীরা। তাদের কোন ধরনের জীবন দক্ষতার উপর প্রশিক্ষণ ও দেয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছরে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে এনজিও সাকো ভিজিডির উপকারভোগীদের নিয়ে একটিও কর্মশালার আয়োজন করেনি। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়ন না করে সরকারী বরাদ্দের অর্থ লুটপাটে মরিয়া হয়ে উঠেছে এনজিও সাকো।

পেকুয়া উপজেলায় অভিযুক্ত এনজিও সাকোর কোন কর্মকর্তা বা কার্যালয় না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো: শওকত হোসেন জানান, এনজিও সাকো পেকুয়ায় কোন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেনি। তাই জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওই এনজিওর কার্যক্রম সন্তোষজনক নয় মর্মে অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছেন। তারা কোন বিল পাবেনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •