তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের প্রথম এই টানেলের দ্বিতীয় ও শেষ টিউবের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ জানান, শনিবার আনোয়ারা প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম প্রান্তে বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউব নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে নির্মাণ করা প্রথম টিউব থেকে বার মিটার দূরে নির্মাণ করা হবে দ্বিতীয় টিউব।

চীনের সাংহাই শহরের আদলে বন্দরনগর চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলে গড়ে তুলতে নগরের পতেঙ্গা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মূল টানেল ছাড়াও পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রায় ষাট শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে আনোয়ারা প্রান্তে ১২ মিটার ব্যাসের একটি টিউব স্থাপনের কাজ শেষ করার পাশাপাশি টানেলের দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় টিউবের কাজ শেষ হলে এই টানেলের ৪ লেন দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলাচল করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিনপিং (বাংলাদেশ সফরকালে) কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এ টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

এরই মধ্যে এর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়প্রকল্পটিেছ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানি (সিসিসিসি) চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে এ কাজ করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •