মোঃ নেজাম উদ্দিনঃ
কক্সবাজারে দলছুট বন্য হাতিকে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দিয়েছেন কক্সবাজার বন বিভাগ। তারা সমন্বিত টিম করে আজ সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কোন ধরনের ক্ষতি না হয় এমনভাবে একটি বন্য হাতিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বনে ফিরে যেতে সাহায্য করে।
চকরিয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে এসেছে দলছুট একটি বন্য হাতিটি এমনটি ধারনা করছে এলাকাবাসি । হাতিটি ভোররাতে খাবারের সন্ধানে আসলেও আলো ফোটার সাথে সাথে মানুষের নজরে পড়ে যায়। এতে দলছুট হাতিটি দিকবেদিক ছুটতে থাকে। এতে উৎসুক মানুষও দলছুট হাতিটির পিছু নেয়। এই অবস্থায় হাতিটিকে নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ভোররাতে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বাঁশখাইল্লা পাড়ার লোকালয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠা মানুষ দেখতে পায় এই বন্য হাতি।কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলাধীন বেতুয়া বাজার পুচ্ছালিয়া পাড়া এলাকার লোকালয়ে বন্যহাতী প্রবেশ করায় সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রেঞ্জ ফাসিয়া খালী কর্মকর্তা রেঞ্জ মোঃ মাজহারুল ইসলাম, ও ডুলাহাজারা বংগবন্ধু সাফারী পার্ক, সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মোঃ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, এর যৌথ নেতৃত্বে একদল বনকর্মী, সি পি জি সদস্য দিনব্যাপী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া বন্য হাতিকে লোকালয় হতে বন্যপ্রানীর নিরাপদ আবাসস্থল বনাঞ্চলের দিকে ফেরত পাঠানো হয়।
বিকালে বন্যহাতীকে লোকালয় হতে বনাঞ্চলে ফেরত পাঠানোর অভিযানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ মোঃ তহিদুল ইসলাম, এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগ,চট্টগ্রাম মহোদয় অংশগ্রহন মোঃ ইয়াছিন নেওয়াজ অংশগ্রহণ করেন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের স্পেশাল টিমের একেএম আতা এলাহী জানান,একটি হাতি দিক হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসে। আমরা বনবিভাগের কর্মীরা ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম মিলে হাতিটিকে কোন ধরনের ক্ষতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে হাতিটি বনে ফিরে যেতে সাহায্য করি এবং হাতিটি বনে ফিরে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দলছুট বন্য হাতিটি ভোর থেকেই এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে চলেছে। আর হাতির পিছু নিয়েছে উৎসুক মানুষও। বর্তমানে হাতিটি মানুষের তাড়া খেয়ে পুচ্ছলিয়া পাড়ার জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে। যার চারদিকে লোকালয়। ফলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এ ব্যাপারে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বন্য হাতিটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে দলছুট হয়। হাতিটিকে নির্দিষ্ট আবাসে ফেরাতে এলিফেন্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)ও বনবিভাগের সদস্যরা কাজ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •