ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
বিমানের নিরাপত্তা ও ঝাউবন রক্ষায় কাটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাহিনীর কক্সবাজার প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম শাফকাত আলী।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষত রেখেই নির্মিত হবে বিমান বাহিনীর শেখ হাসিনা ঘাঁটি।
এজন্য একটি ঝাউগাছ গাছও কাটা হয়নি। বরং এর শোভাবর্ধনে নতুন করে আরও ২ হাজার ঝাউগাছ রোপন করা হয়েছে।
সৈকতের দৃষ্টিনন্দনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সেখানে আরও সবুজ বনায়ন গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)সহ ১২টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এম শাফকাত আলী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ”ভূমিদস্যুর কবলে ঝাউবন” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ দুুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
বিমান বাহিনী কখনো ভূমিদস্যুতার কাজ করে না। বিমান বাহিনীর নিরাপত্তার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে হয়। কেননা বিমান ঘাটিতে হাজার কোটি টাকার মূল্যে অনেক যন্ত্রপাতি ও এয়ারক্রাপ্ট থাকে। এগুলোর নিরাপত্তার জন্য কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে বিমান বাহিনীর সম্মেলন কক্ষে সভায় এয়ার ভাইস মার্শাল এম শাফকাত আলী আরো বলেন, ঘাঁটিটির পুরো কার্যক্রম শুরু হলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের কক্সবাজারের আলাদা একটি পরিচিতি আসবে। আমাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কারনে ইতোমধ্যে পাল্টে গেছে কক্সবাজার সৈকতের চেহারা। শাহীন বীচ এর জলন্ত উদাহরণ।
কক্সবাজার সৈকতের অন্যসব পর্যটন এলাকার চেয়ে বিমান বাহিনীর এই স্পট এখন নিরাপত্তাসহ সব কারণে মানুষের নজর কাড়ছে। সামনে দেশী বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের আকর্ষণ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, বিমান বাহিনী জনগণের নিরাপত্তার জন্য সদা সর্তক। অভ্যন্তরিণ ও বহিঃশত্রু আক্রমণ থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষায় তারা প্রস্তুত। কক্সবাজার বিমান বাহিনীর নিরাপত্তার জন্য ও কৌশলগত কারনে ঝাউবন রক্ষায় কাটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আগে এই ঝাউবনে অনেক আইনশৃংখলা বিঘ্নকারি কাজ হতো। এখন পর্যটকেরা নিরাপদে সৈকতে ভ্রমন করতে পারছে। সৈকত এলাকা পরিচ্ছন্ন। বিলুপ্ত লাল কাকড়ার আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। আমরা ঝাউবন কাটতে নয় বাঁচাতে বেড়া দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে চাই, যেন আগামী প্রজন্ম আমাদের মনে রাখে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বিমান বাহিনী জনগণের। ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ নেই ।
সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার একটি ঘুর্ণীঝড়প্রবণ এলাকা। যাত্রীবাহী বিমান বন্দরের বদলে খুরুশকুল অথবা রামু ক্যান্টেম্যান্ট এর পাশে বড় জায়গা নিয়ে শুধুমাত্র বিমান বাহিনীর জন্য আলাদা বিমান বন্দরও ঘাটি তৈরি করা যেতে পারে। বিমান বন্দরটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে হতে পারে।
বিমান বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুমদ্র সৈকতে লাল কাকড়া আবার ফিরেছে। সাগরলতা দেখা যাচ্ছে। নতুন করে ঝাউগাছ লাগিয়েছেন বিমান বাহিনী। সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন রেখেছেন। সাংবাদিক এবং পরিবেশবাদীদের দূরে সরিয়ে না রেখে কিছুদিন পর পর দুইপক্ষ আলাপ আলোচনা করলে কক্সবাজারের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে এমনটা আশা করছি।
ফজলুল কাদের চৌধুরী আরো বলেন, আমরা সরকার কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরোধী নই। আমরা পরিবেশের কথা বলি। পরিবেশ যেখানে বিপর্যয় হবে সেখানে আমাদের প্রতিবাদ চলবে। প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন নয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।
উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ অধিনায়ক আজিম আহমেদ, দৈনিক কক্সবাজার বাণী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল মোস্তফা খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সহসভাপতি মোঃ নেজাম উদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল মামুন,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আজিম নিহাদ, অর্থ সম্পাদক সমীর পাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক দোলন ধর নির্বাহী সদস্য ইসমাইল সাজ্জাদ, টিম কক্সবাজারের গাজী নাজমুল হক, কক্সিয়ান এক্সপ্রেসের সেক্রেটারি মোঃ তারেক হায়দার, টিম ইলেভেন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, দরিয়ানগর গ্রীন ভয়েস সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সায়েম, পশ্চিম নতুন বাহারছড়া সমাজ কল্যাণ সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, তারুণ্যের প্রতিবাদের আরফিন আরিয়ান সায়মন, চেয়ারম্যান আনসারুল করিম, কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের এনামুল কবির, ইউনিটি ষ্টুডেন্ট কাউন্সিল কক্সবাজারের ফাউন্ডার ইয়াসির আরাফাত, উই ক্যানের ফাউন্ডার ওমর ফারুক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •