এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া#
চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গত ৮ ডিসেম্বর রাতে বদরখালী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ ইন্সপেক্টর খন্দকার সাঈদ আহম্মদ বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পহরচাঁদা সাংগঠনিক ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়াজুল ইসলাম বাদল, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওরায়দুর রহমানের ছেলে ফজলে রাব্বি মারুফ, বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মাহাবুব সোবহানের ছেলে জিসান, চট্টগ্রামের মিরসরই উপজেলার বাসিন্দা নিজাম হাজি, বরইতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালা সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিম উদ্দিন,একই ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে বশির আহামদের নাম উল্লেখ পূর্বক আরো ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতানামা আসামি করা হয়। মামলার প্রায় আসামী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই মামলার সকল আসামীর বিরুদ্ধে ১৫ (১) ২০১০ সালের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়।

 

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদীর বিএমচর ইউনিয়নের পুচ্ছালিয়াপাড়া ও বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানার পর গত ৭ ডিসেম্বর মাতামুহুরী নদীতে অভিযান চালিয়ে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যমানের পাঁচটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এরপর বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

তবে মামলার আসামী বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম দাবী করেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি কখনো জড়িত নই। আর জব্দ করা ড্রেজারগুলোর মধ্যে আমার কোন ড্রেজার নেই। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতেই কৌশলে আমাকে এ মামলায় মামলায় আসামী করা হয়েছে।

 

মামলার বাদি বদরখালী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ ইন্সপেক্টর খন্দকার সাঈদ আহম্মদ বলেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়াজুল ইসলাম বাদলের নেতৃত্বে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আসছিলেন। বিষয়টি জানার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যমানের পাঁচটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। ভবিষ্যতেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •