ছবি: আহত স্পীডবোট চালক টিটু দাঁশ।

বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজারের মহেশখালীর জেটিঘাট এলাকায় পূর্ব শক্রতার জের ধরে টিটু দাঁশ নামে এক স্পীডবোট চালককে প্যারাবনে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীদের আঘাতে দুই পা ভেঁঙ্গে গেছে ওই স্পীডবোট চালকের। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা দিকে জেটিঘাট সংলগ্ন প্যারাবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত টিটু দাঁশ শহরের ছয় নাম্বার (নতুন বাহারছড়া) এলাকার সম্বু দাঁশের ছেলে।

আহত টিটু দাশ ও প্রত্যদর্শীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ১২-১৩ দিন আগে মহেশখালীর স্পীডবোট চালক আরহানের সাথে টিটু দাশের সাথে মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ওই সময় টিটু দাশের হাতের নকের আচঁড় লেগে আরহানের নাকের চামড়ায় সামান্য আঘাত লাগে।

পরে এই ঘটনা সমাধান করতে কক্সবাজার স্পীডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম আরহানের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং শাস্তি হিসেবে টিটুকে ১২ দিনের জন্য চাকরি থেকে বহিষ্কার করে। ১২ দিন পর টিটু পুনরায় পেশায় ফিরে আসে। এরই মধ্যে  মহেশখালী স্পীডবোট মালিক সমিতির সেক্রেটারি মিশকাত ফোন করে দিদারুল আলমকে জানান টিটু আবারো স্পীড বোট চালাচ্ছে কেন? বিষয়টা ঠিক হচ্ছেনা। আমার ছেলেরা তার উপর ক্ষেপে আছে। যে কোন মুহুর্তে মারতে পারে।

এই হুমকির পরেই গোরকঘাটা সিকদার পাড়াস্থ ৮ নং ওয়ার্ডের মিশকাতের নেতৃত্বে টিটু দাশের উপর হামলা চালায় মহেশখালী ৪ নং ওয়ার্ডের রাখাইন পাড়ার জসিম উদ্দিনের ছেলে স্পীডবোট চালক আরফাত, আরহান, মানুনের ছেলে আরশান ও একই এলাকায় কায়সার প্রকাশ মিনাক।

হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে টিটু দাশ জানান, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্যারাবনে নিয়ে যায়। পরে লোহার রড আর গাছ দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। লোহার রড দিয়ে পাঁ ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে হাঁড় ভেঙ্গে দিয়েছে। এছাড়া সারা শরীরে গাছ দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। এতে টিটু’র শরিরের বিভিন্ন অংশে কালছে জখমের দাগ দেখা যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করতে পারেনি। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে চলে যায়। আহত টিটুকে প্রথমে মহেশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় পরে কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার স্পীডবোট মালিক সমিতিরি সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম জানান, স্পীডবোট চালক টিটু এবং আরহানের মধ্যে যে ঘটনা ঘটেছিল তা সমাধান করা হয়েছে। এর পরও এই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এতবড় হামলার ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। এর সুষ্ঠ বিচার প্রত্যাশা করছেন স্পীড মালিক ও চালকগন।

এ হামলার ব্যাপারে অভিযুক্ত মহেশখালী স্পীডবোর্ট মালিক সমিতির সেক্রেটারী মিশকাত জানান, স্পীডবোট চালক টিটু এবং আরহানের মধ্যে মারামারির ঘটনায় টিটুকে শাস্তি স্বরূপ ২ থেকে ৩ মাস চাকরী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কক্সবাজার স্পীটবোট মালিক সমিতির সেক্রেটারী সেই কথা রাখেনি। যার ফলে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
এ হামলার সাথে মিশকাত জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনার ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তিনি ওই সময় নাকি ঘুমে ছিলেন।

এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার ওসি আব্দুল হাই জানান, স্পীড বোট চালক টিটু দাঁশ হামলার ঘটনায় মহেশখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •