সিবিএন ডেস্ক:
২০২১ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণির এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি পরীক্ষা কার্যক্রম কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করে সরকার। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। এ তথ্য নিশ্চিত করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সঙ্গে এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। সেই থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়ে আসছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ নামে একটি পৃথক বিভাগ সৃষ্টির পর থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার কার্যক্রম কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তাই এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সকল কার্যক্রম এ বিভাগ থেকে পরিচালনার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
গত ২৩ নভেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় আগামী ২০২১ সাল থেকে এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সকল কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়, যেহেতু মাদ্রাসার এবতেদায়ি স্তরটি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সেহেতু এবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নেওয়া আবশ্যক।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ২৯ লাখ তিন হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৬৭ জন ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৭১ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •