কুতুবদিয়া সংবাদদাতা:
কুতুবদিয়ায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে ৩ কলেজ ছাত্রসহ ৫জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন মিজানুর রহমান নামে এক মুদি দোকানি। ওই ৩ ছাত্রের বয়স বাড়িয়ে নিজের স্ত্রী ও ভগ্নিপতিকে আসামী করে মামলার এজাহারে দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের রোড পাড়ার (২নং ওয়ার্ড) মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বড়ঘোপ বাজারের মুদি ব্যবসায়ি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তারই দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা খানম বাদী হয়ে কুতুবদিয়া ম্যজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা (মামলা নং-সি.আর ৫২/২০২০) দায়ের করেন। বিভিন্ন মহলে দেন দরবার করেও এর সুরাহা করতে পারেনি মিজান। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

এদিকে, গত ২৭ নভেম্বর বাজার থেকে ফেরার পথে কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের পাশে আপন ভগ্নিপতি স্থানীয় লাল ফকির পাড়ার মাহাবুবুল হকের সাথে ভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক বাঁধে মিজানের। এঘটনায় তিলকে তাল বানিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মাহাবুবুল হককে প্রধান করে তার ২য় স্ত্রীসহ ৫ জনকে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করে মিজান।

মামলার প্রধান আসামী বাদীর ভগ্নিপতি মাহবুবুল হক বলেন, তিনি তার স্ত্রীর বড় ভাই মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন। টাকা ফেরত দিতে বলায় তার সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। এ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মিজানুর আমাকে, আমার পুত্র কুতুবদিয়া সরকারি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র মো: রিফাত (১৭), স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় স্বাক্ষী দেয়ায় মিজানের স্ত্রীর খালাতো ভাই ধুরুং স্কুল এন্ড কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র সাজেদুল ইসলাম সিয়াম (১৬) ,স্ত্রীর ছোট ভাই কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজের ছাত্র সাইমুন ইসলাম সাঈদী রাকিব (১৭) ও মিজানের স্ত্রী হাছিনা খানমকে পরিকল্পিতভাবে আসামী করে।

তিনি আরো বলেন ঘটনাটি রাত সাড়ে ১০ টায় বড়ঘোপ বাজারে হলেও ২ আসামী লেমশীখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্বাক্ষীরাও ঘটনাস্থলের কেউ নয় বরং তাদের বাড়ি কৈয়ারবিল ইউনিয়নে। কলেজ ছাত্রদের আসামী করায় ও বিষয়টি সাজানো বিধায় এলাকাবাসি সহ ভুক্তভোগীরা এর নিন্দা জানান।

থানার ওসি মো: জালাল উদ্দিন বলেন, একটি ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ০২ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •