সংবাদদাতা:
দৈনিক আজাদীর মহেশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান এর গৃহীত মানবিক উদ্যোগে পৃথিবীর আলো দেখতে যাচ্ছে মহেশখালীর অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের ১২ বছরের জন্মান্ধ কিশোরী কন্যা নাহিদা আক্তার। মায়ের গর্ভ থেকেই চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেল ১২ বছর সুন্দর এই পৃথিবী দেখা থেকে বঞ্চিত ছিল সে। গতকাল ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে তার চোখে সফল অপারেশনের মাধ্যমে লেন্স সংযোজিত হয়ে পৃথিবীর আলো দেখতে যাচ্ছে সে।
জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়ন এর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী গ্রামের দিনমজুর আছিয়া বেগম দম্পতির মেয়ে নাহিদা আক্তার। জন্মের পর থেকেই ছিল সে অন্ধ। গরিব মা বাবা স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো চিকিৎসা করেও ফেরাতে পারেনি মেয়ের চোখের জ্যোতি। ডাক্তার বলছিল তার দু’টি চোখ অপারেশন করে লেন্স বসাতে হবে। এই চিকিৎসা কাজে অন্তত ৭০/৮০ হাজার টাকার প্রয়োজন। এই টাকা সাথে গরিব মা বাবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় এতদিন তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দৈনিক আজাদীর মহেশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান জানার পর তিনি নাহিদার চিকিৎসা সহায়তার জন্য নিজের উদ্যোগে একটি মানবিক চিকিৎসা তহবিল গঠন করেন। এই তহবিলে তিনি নিজে আর্থিক সহায়তা দেন তার বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী সহ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বন্ধুদের সহায়তা কামনা করে অভূতপূর্ব সাড়া পান। তা থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাম পাশের ১টি চোখ অপারেশন করে লেন্স স্থাপন করা হয়। ওই চোখে সে পৃথিবীর আলো দেখা শুরু করে। অবশেষে বাকি ডান চোখটিও কাল ৮ ডিসেম্বর সকালে একই হাসপাতালে সফল অপারেশনের মাধ্যমে লেন্স স্থাপন করা হলো। অপারেশনে নিয়োজিত চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নাহিদার মা-বাবার অসচেতনতার কারণে তার চোখের অবস্থা জটিল পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তার প্রথম চোখে সফল অপারেশনের মাধ্যমে সে পৃথিবীর আলো দেখা শুরু করেছে। এই চোখেও লেন্স স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে এই চোখ দিয়েও দেখতে পাবে।
মহেশখালীর এই অসহায় গরিব পরিবারের কিশোরী মেয়ে নাহিদার মহেশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান। উল্লেখ্য তিনি ইতিপূর্বেও মহেশখালীর সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের শারিরীক প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রী মিনা আক্তারের কৃত্রিম পা সংযোজন করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •