সংবাদদাতা:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলা শাখার কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় কেন্দ্রিয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি গুলো কখনো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়া সহ্য করেনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে গিয়ে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৩০ লক্ষ মানুষ পাকিস্তানীরা হত্যা করেছে এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার পরও তারা দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর তারা বিএনপি জামায়াতের সাথে মিশে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি-জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করেছে, আওয়ামী লীগের একনিষ্ট কর্মীদের হত্যা করেছে, ধর্মের দোহাই দিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিতর্কিত করেছে। কোরআন সুন্নাহর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বার বার বিভ্রান্ত করেছে।

 

তিনি বলেন-আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই জাতিকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্য দল গুলো ক্ষমতায় এসে শুধু লুটপাট করেছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েছে, শ্রেণী বৈষম্য দুর করেছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ ঈশ্বনীয় সাফল্যের গোড়ায় পৌছেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশ বর্তমানে অনুসরণ করে। দেশ যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিএনপি-জামায়াতের ইন্দনে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি গুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

 

তিনি বলেন-বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে সে দেশের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে ভাস্কর্য্য নির্মিত হয়েছে। কোথাও ভাস্কর্য্য বিরোধী কথাবার্তা শুনা যায়নি। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য্য নিয়ে তারা আজ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাস্কর্য্য ভাংচুর করেছে। অথচ দেশে জিয়াসহ অনেকের ভাস্কর্য্য রয়েছে। এ সব ভাস্কর্য্য স্থাপনের সময় তারা কোন উচ্চ বাক্য করেনি। তখন কোথায় ছিল তাদের ফতোয়া। ভাস্কর্য্য মানে মুর্তি নয়, ভাস্কর্য্য হল একটি জাতির ইতিহাস, ঐহিত্য, শৌর্য বীর্যের প্রতীক ও স্মারক। জাতির জনকের ভাস্কর্য্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি জামায়াতের ইন্দনে তারা দেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি তাদের প্রতিহত করার আহবান জানান।

 

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বক্তব্য রাখেন-আশেক উল্লাহ রফিক এম.পি, এড. রনজিত দাশ, নুরুল আবছার চেয়ারম্যান, এড. আয়াছুর রহমান, ইউনুছ বাঙ্গালী, ডাঃ মাহবুবুর রহমান, এড. তাপস রক্ষিত, ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এড. সুলতানুল আলম, সোনা আলী, জিয়া উদ্দিন আহমদ, বদরুল হাসান মিলকী প্রমুখ।

 

শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ড. নুরুল আবছার। উপস্থিত ছিলেন-সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, কামাল হোসেন চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী রাজা, মোঃ শফিক মিয়া, আজিজুর রহমান বি.এ, এড. বদিউল আলম সিকদার, জাফর আলম চৌধুরী, রেজাউল করিম, সায়মুম সরওয়ার কমল এমপি, কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি, মাহাবুবুল হক মুকুল, মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী, এড. আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী, আবদুর রহমান বদি, খোরশেদ আলম কুতুবী, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ হোসেন বিএ, এড. ফরিদুল আলম, এড. নুরুল ইসলাম, কাজী মোস্তাক আহমদ শামীম, খালেদ মোহাম্মদ, এম.এ. মনজুর, আমিনুর রশিদ দুলাল, শফিউল আলম চৌধুরী, আলহাজ্ব মকসুদ মিয়া, মিজানুর রহমান, এড. আবদুর রউফ, জি.এম. আবুল কাসেম, মিজানুর রহমান ইকরা, উম্মে কুলছুম মিনু।

 

কার্যনির্বাহী সংসদের সভা ২ দিনের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •