‘সংবাদ সম্মেলনে এইচএম নুরুল আলমের দাবী-পিবিআই’র পর এবার ট্যুরিস্ট পুলিশের জমি নিয়েও পাঁয়তারা শুরু করেছে বেলায়েত-ইদ্রিস-নুরুল হক চক্র’ শিরোনামে দৈনিক কক্সবাজার, আজকের দেশবিদেশ, ইনানী, সকালের কক্সবাজার, কক্সবাজার নিউজ ডটকমসহ কয়েকটি পত্রিকায় গতকাল সোমবার ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিম্ন স্বাক্ষরকারির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, মানহানিকর ও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা মাত্র।
মূলত: পিবিআই কক্সবাজার জেলার অধিগ্রহণকৃত জমির বিষয়ে ২০১৮/১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবনা ‘চ’ ফরম, ফিল্ড বুক ও যৌথ তদন্তের মাধ্যমে ভূমির প্রকৃত মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একশ্রেনীর ভূমিদস্যু দালালচক্র অভিযোগ করলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান শ্রাবন্তী রায় (উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগ, কক্সবাজার) এর নেতৃত্বে তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ৭/৬/২০২০ ইং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করেন। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে বহুদিন আগেই পিবিআই কক্সবাজার জেলা অফিসকে তাহাদের অধিগ্রহণকৃত জমির দখল হস্তান্তর করেন এবং বর্তমানে পিবিআই চারপাশে সীমানা চিহ্নিত করে তাদের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখলে রয়েছে। এছাড়া পুরো প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনে ১২ জন ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা উত্তোলন করলেও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে শুধুমাত্র বেলায়েত, ইদ্রিস ও নুরুল হককে দায়ী করা হয়েছে। এতে বুঝতে বাকি থাকেনা যে এইচএম নুরুল আলমের উদ্দেশ্য কি। এ ধরণের একটি মিমাংসিত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সাংবাদিক সম্মেলনের নামে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো সুদুরপ্রসারি ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র।
ষড়যন্তের অংশ হিসেবে ডজন মামলার আসামী সন্ত্রাসী কলাতলী আদর্শগ্রামের জাকির আলমের পুত্র নাছির উদ্দিনকে ভাড়া করেন এইচএম নুরুল আলম। কক্সবাজার মহিলা কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মরহুম আজম মোবারক উল্লাহ চৌধুরী গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু বরণ করলে, সন্ত্রাসী ভাড়াটে নাছির উদ্দিন মৃত আজম মোবারক উল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী তছলিমা বেগম গং এর স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে গত ২৯ নভেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ফৌজদারি দরখাস্ত ২৫/২০২০ নম্বরে এড. নুরুল হক, বেলায়েত হোসেন, মো. ইদ্রিস সিআইপি, মো. আশরাফুল আফসার, মো. আমিন আল পারভেজ, শ্রাবন্তি রায়সহ সরকারী কর্মকর্তা ও ১৪ জনের বিরুদ্ধে ভুঁয়া মামলা দায়ের করলে, তা বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল সরাসরি খারিজ করে দেন।
পিবিআই’র জমি অধিগ্রহন নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ, মিথ্যা মামলা, সাংবাদিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন ভুয়া কার্যক্রমের একমাত্র কারণ হলো এইচএম নুরুল আলমের জাল-জালিয়াতি ধরা পড়া। মূলত: রামু উপজেলার পশ্চিম চাকমারকুল এলাকার নুর আহম্মদ সিকদারের ছেলে এইচএম নুরুল আলম একজন প্রতারক, মামলাবাজ, ভূমিদস্যু, জালিয়াত। তিনি কক্সবাজার সদর ভুমি অফিসে ঝিলংজা মৌজার সৃজিত একটি ভুয়া খতিয়ানকে (বিএস খতিয়ান নং-১১৩৩৪) পুঁজি করে সদরের ঝিলংজা মৌজার কলাতলি বাইপাস সড়কের দক্ষিণ পাশে (চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক লাগোয়া) প্রায় ৫ কোটি টাকা মুল্যের জমি স্বাধীন ট্রাভেলসের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখলের চেস্টা করে। অথচ ভুমি অফিসে এধরনের কোন খতিয়ানের অস্থিত্ব নেই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর নামজারী আপিল ৪৭০/২০১৪, ১১৭৪ নং স্বারক মুলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সদর। ওই প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার ও নাজিরের দস্তখত নেই, মুল নামজারির নথিও পাওয়া যায়নি। উক্ত ভুয়া খতিয়ান নিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা করলে এইচএম নুরুল আলমের বিরুদ্ধে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আদালতে এড. নূরুল হক বাদী হয়ে আপিল মামলা নম্বর ৫৪/২০২০ দায়ের করেন। মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে ১১/১০/২০২০ ইং আদালতের বিচারক মোঃ আমিন আল পারভেজ জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত ১১৩৩৪ নম্বর খতিয়ান বাতিল ঘোষণা করেন। এইচএম নুরুল আলমের জালিয়াতি ধরা পড়ে আদালতে খতিয়ান বাতিল হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আইনগত মোকাবেলা না করে সন্ত্রাসী ভাড়া করে বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংবাদিক সম্মেলনের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
অথচ এইচএম নুরুল আলম বাঁকখালী নদীর জমিকে ধানি জমি দেখিয়ে দুটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে ১০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক, জাতীয় নদী কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই নুরুল আলম দুদক কার্যালয়ে হাজিরাও দিয়েছেন। অভিযোগ থেকে পার পেতে সেখানেও আশ্রয় নিচ্ছে প্রতারণার নানা কৌশলের। এখানেই শেষ নয়, এই নুরুল আলম নদী খেকো, ব্যাংকের টাকা লোটপাটকারি, ভুমিদস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী বহু মামলার আসামী সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অধিকাংশই ফৌজদারি মামলার আসামী। নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানা ও আদালতে প্রতারণা, জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। এ অবস্থায় সাংবাদিক সম্মেলনে এইচএম নুরুল আলমের আনিত অভিযোগ সমূহ যাচাই-বাছাই করলে দেখা যাবে তাদের সব অভিযোগই মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, মানহানিকর ও শাক দিয়ে মাছ ঢেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা মাত্র। এসব প্রসঙ্গে যথেষ্ট কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চাইলেই আমাদের এসব বিষয়ে কাগজপত্র নিয়ে যাচাই-বাছাই করতে পারে, আমরা তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। সুতারাং প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিবেদক
এডভোকেট নুরুল হক
কক্সবাজার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •