মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

শিশু ধর্ষণের দায়ে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ জজ) জেবুন্নাহার আয়শা একজন’কে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। অর্থদন্ড আদায়ের পর ধর্ষিতাকে তা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। সোমবার ৭ ডিসেম্বর সকালে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামীর নাম মোহাম্মদ ইসলাম, তার পিতার নাম মৃত আলী হোসেন। তার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার করাইয়া ঘোনা, সাহবুদ্দিন বৈদ্যের বাড়ি। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত-২০০৩ সাল) এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ বিচারক এ সাজা প্রদান করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো-২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৩ দিকে রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের মা-হাদ নুরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের ভিতর এনে মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষন করে। এঘটনায় একইদিন রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া নতুনবাজার এলাকার জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা একটি দায়ের করেন। জিআর মামলা নম্বর ২৭/২০১৭ ইংরেজি (রামু), যার শিশু মামলা নম্বর ১৫৬/২০১৭ ইংরেজি এবং নারী মামলা নম্বর : ১৮/২০১৯ ইংরেজি।

রায়ে অর্থদন্ড আদায়ের জন্য আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোহাম্মদ ইসলামের এক লক্ষ টাকার সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করতে জেলা কালেক্টর (ডিসি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামীর সম্পত্তি প্রকাশ্যে বিক্রি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২’তে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ ধর্ষণের শিকার শিশুকে -কে প্রদান করতে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •