বিশেষ প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়া দ্বীপের সুবিধা বঞ্চিত ৩০ জন কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থী কক্সবাজার দেখার সুযোগ পেয়ে আনন্দে আতœহারা হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসমান দ্বীপ কুতুবদিয়ার এসব কিশোর-কিশোরী এর আগে তাদের জেলা শহর কক্সবাজার দেখার সুযোগ পায়নি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এসব সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছেন।

কেবল তাই নয়, দ্বীপের শিশু-কিশোরদের কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দেখানো হয় হিমছড়ি ঝর্ণা ও ইনানীর পাথুরে সৈকত। এসব শিশু-কিশোরদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয় কক্সবাজার শহর সহ আকর্ষণীয় স্থান সমূহও।

গতকাল রবিবার সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসব শিক্ষার্থীদের দ্বীপ থেকে দুইটি স্পীড বোট যোগে কক্সবাজার ভ্রমণে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী থেকে নবম-দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ৩০ জন শিক্ষার্থীর কেউই এর আগে কক্সবাজার শহর দেখার সুযোগ পায়নি।

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া দ্বীপ থেকে জেলা শহর দেখাতে আনা কিশোর শিক্ষার্থীদের রাত যাপনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সাগর পাড়ের হোটেল সী প্রিন্সেস নামের একটি বিলাস বহুল হোটেলে। দ্বীপের সুবিধা বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাতে সাগর পাড়ের ওশ্যান প্যারাডাইজ নামের আরেকটি বিলাস বহুল হোটেলের সৌজন্যে নৈশ ভোজেরও আয়োজন করা হয়।

এসব নিয়ে মজার গল্প শুনালেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। রাতে হোটেলের নৈশ ভোজের অনুষ্টানটিতে জেলা প্রশাসক জানালেন, গত ২৯ নভেম্বর তিনি কুতুবদিয়া দ্বীপে সরকারি সফরে গিয়ে রাত যাপন করেছিলেন। সেইদিন সন্ধ্যায় দ্বীপের সৈকত দর্শনে গিয়ে তিনি অনেক কিশোর শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ পান। এসব শিক্ষার্থীদের সাথে তিনি আড্ডায় মেতে উঠেন দ্বীপের সৈকতে।

শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের সাথে একথা-ওকথা বলতে গিয়েই তিনি জানতে পারেন দ্বীপের সুবিধা বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের কারও কক্সবাজার দেখার সুযোগ হয়নি। শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসককে জানান, তারা সবাই জানে কক্সবাজার বিশ^ব্যাপি পরিচিত একটি স্থান। তবে আর্থিক সঙ্গতি সহ নানা কারনে তাদের কারও ভাগ্যে সেই স্বপ্নের কক্সবাজার দেখার সুযোগ হয়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন-‘ আমি এসব শিশুদের একথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিই, তাদের কক্সবাজার দেখানোর ব্যবস্থা করব। দুনিয়ার সাত-সাগর তের নদী পাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান কক্সবাজারে মানুষ বেড়াতে আসেন। অথচ আমারই জেলার একটি শিশু কক্সবাজার দেখবে না-তা হতে পারে না।’ জেলা প্রশাসক বলেন, এসব শিশুদের ‘স্বপ্ন দেখা’র জন্য উৎসাহিত করতে হবে। স্বপ্ন না দেখলে কেউই সামনে এগুতে পারেনা। তিনি আরো জানান, পর্যায়ক্রমে দ্বীপের আরো শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এরকম শিক্ষা সফর হিসাবে কক্সবাজার দেখাতে আনা হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত নৈশ ভোজের অনুষ্টানে মহেশখালী-কুতুবদিয়া সংসদীয় আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সহধর্মীনী গুলশান আরা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে কুতুবদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ইসফা বিনতে হাসান তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়-‘ কক্সবাজারের মানবিক জেলা প্রশাসকের বদৌলতে আজ আমরা স্বপ্নের কক্সবাজার দেখতে পেলাম। পাঁচ তারকা হোটেলে আমাদের থাকার সৌভাগ্য যেমনি হয়েছে তেমনি কাঁটা চামচ দিয়ে খাবারের মত পরিবেশও পেলাম।’ রিফা আকতার নামের সপ্তম শ্রেণীর অপর একজন ছাত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়-‘কক্সবাজার নিয়ে এতকাল পড়েছি আর শুনেছি। কিন্তু আজ বাস্তবে চোখে দেখলাম। দেখলাম বিশে^র দীর্ঘতম সৈকত, দেখলাম ঝিলিমিলি বৈদ্যুতিক বাতি এবং সৈকত তীরের মেরিন ড্রাইভও।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •