মোঃ কাউছার ঊদ্দীন শরীফ :

চট্রগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও বাস স্টেশনে মক্কা এন্টারপ্রাইজের সামনে সারি করে রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। এখান থেকেই সিলিন্ডার বিক্রি হয় প্রতিদিন। মহা সড়কের মনোহরির দোকান ইসলাম ষ্টোর, আজিজ ষ্টোরের সামনেও সিলিন্ডারের সারি। তারাও একইভাবে বিক্রি করছে সিলিন্ডার।

রবিবার ৬ই ডিসেম্বর ঈদগাঁও বাস স্টেশন থেকে শুরু করে কলেজ গেইট পর্যন্ত, ডিসি সড়কের শুরু থেকে বঙ্গিম বাজার পর্যন্ত, মাছ বাজার থেকে শুরু করে বাঁশঘাটা সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মুদির দোকান, তেলের দোকান, পানের দোকান, ঝুপড়ি, চায়ের দোকান এমনকি ওষুধের দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশসহ জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামজাত করা হয়েছে।

অধিকাংশ দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। কিছু দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র টাঙানো হলেও তা অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ।

নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

বিধি মোতবেক ১০টির বেশি সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অনাধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডারে মজুদ করা যাবে। বিধির ৭০ ধারানুযায়ী এসব সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গনে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বাতাসের উৎস থাকা যাবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে পান- চা-দোকান থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন স্টোরেও পাওয়া যায় এ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল। কিন্তু ঈদগাঁও বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে নয় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অনেকের লাইসেন্স নাই।

ঈদগাঁও’র সচেতন নাগরিকেরা বলেন, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস,তাই অরক্ষিত অবস্থায় যত্রতত্র সিলিন্ডার ফেলে রেখে বিক্রির ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থাকলেও তা অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। বর্তমানে ঈদগাঁওতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী প্রায় ৪০ হাজারেরও উপরে। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মনগড়া ভাবে যেখানে সেখানে সিলিন্ডারের বোতল ফেলে রেখে ব্যবসা করছে।আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

কথা হয় মক্কা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ বশরের সঙ্গে। তিনি বলেন, কিছু দিন ধরে দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেছি। কিন্তু আমাদের কেউ নিষেধ করেনি। কলেজ গেইটের দুর্ঘটনার পর আমার ৭০০ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে দিয়েছি এখন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা করি না। আজ আমার ৫০ টি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল সেই গুলো আমার মুদির দোকানে ডুকিয়ে রাখছি।

কলেজ গেইট এলাকার ইসলাম ষ্টোরের মালিক মোঃ সেলিম বলেন,গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে বিপরীতে কাগজপত্র আছে।

কলেজ গেইট এলাকার আজিজ ষ্টোরের মালিক আজিজ বলেন, আমার দোকানে খালী গ্যাস সিলিন্ডার রাখি কাস্টমার আসলে বাহির থেকে ক্রয় করে এনে বিক্রি করি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, যেসব দোকানে সনদ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস বিক্রি হচ্ছে শীঘ্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঐসব দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •