এস.এম রুবেল

আজ (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে আবারো কক্সবাজার-মহেশখালী নদী পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। বিকেল ৫টায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। তারউপর শীতকাল নদীও শান্ত। এই মুহুর্তে এই মনগড়া সিদ্ধান্ত নিশ্চিত গণবিরোধী। কেননা একটি উপজেলার সাথে সন্ধ্যার পর যোগাযোগ বন্ধ রাখলে কি পরিমাণ সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে তা সবাই জানেন। জেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ এই নৌপথ, এটি সন্ধ্যার পর থেকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ একচেটিয়া মনোভাবের ফসল ছাড়া কিছু নয়। চিকিৎসা, চাকরী, শিক্ষা, ব্যবসা সহ বিভিন্ন কাজে মহেশখালীর অসংখ্য মানুষ কক্সবাজারে যায়। তারা যদি কাজ শেষে সন্ধ্যার পর ফিরতে না পারে, তবে এই মানুষ গুলো কি পরিমাণ সংকটে পড়বে ত ভেবেছেন? রাতের খাবার, হোটেল ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ কিভাবে মেটাবে? এমনিতে করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকট চলছে।

এদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বোটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয়। তখন কি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েনা? ইতিমধ্যে যাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকবার জরিমানাও করেছেন তাদের। সর্বশেষ গতকালও গামবোটে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান।

তারপরে হঠাৎ আজকে সন্ধ্যার পর বোট চলাচল বন্ধের ঘোষনা দিল বোট ও ঘাট কর্তৃপক্ষ। এতে পরিষ্কার বুঝা যায় তাদের অনিয়ম গুলো ধরায়, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে শিখায়, তারাও ফন্দি করে জনসাধারণকে কষ্ট দেয়ার সুযোগটি নিয়ে সন্ধ্যার পর বোট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

নিরাপত্তাকে পুঁজি করে যদি বোট বন্ধ রাখা হয়, তবে সন্ধ্যের পর এমপি মহোদয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার, নেতারা যদি কক্সবাজার-মহেশখালী পারাপার করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষ পারবেনা কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর কেউ দিবেনা।

শীতকালে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বোট চলাচল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেননা, পুরো শীতকাল জুড়ে সাগর ঠান্ডা থাকবে। তাছাড়া গামবোটে ৪০ জন যাত্রী নিলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটা নিশ্চিত হয়। কিন্তু তা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করে তারা। আর প্রতিবাদ করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে বোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া। এরকম গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করা প্রয়োজন।

গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলে কর্তৃপক্ষ, এমপি মহোদয়, আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, জেলা সভাপতি সহ ঘাট সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নেতা ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক- সংবাদকর্মী, মহেশখালী।

sent Today at 1:11 AM

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •