আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পার্বত্য রাঙামাটি থেকে বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই পাচার করা হচ্ছে মূল্যবান গাছ ও চিরাই করা কাঠ। অবৈধ চোরা কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে রাঙামাটি শহর থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধ নানা প্রজাতির গাছ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন পাচার কৌশল ধরতে বেশ হিমশীম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষ। তারই ধারাবাহিকতায় তেলের গোলাকার ট্যাংকের ভেতরে করে অভিনব কায়দায় কাঠ পাচারের সময় বৃহস্পতিবার মানিকছড়ি চেকপোষ্ট থেকে একটি তেল বহনকারি ট্যাংকার (চট্টমেট্টো-ট ১১-০৩০৭) গাড়িটি আটক করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এসময় চালক আব্দুর শুক্কুরকে আটক করা হয়।
বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে তেলের গাড়িতে করে বিক্রয় নিষিদ্ধ গোদা ও চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির চিরাইকৃত কাঠ বোঝাই করে রাঙামাটি থেকে পাচারকালে মানিকছড়ি চেকপোষ্ট পার হওয়ার সময় সেটিকে আটক করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এসময় গাড়িটির ভেতরে বিশেষভাবে মজুদ করে রাখা ৩শ ঘনফুট চিড়াই কাঠ উদ্ধার করে। এসব কাঠের বাজার মূল্য প্রায় চার লক্ষ টাকা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুর জামান শাহ জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে তেলবাহী লরিটিতে করে মূল্যবান গোদা ও চাপালিশ কাঠ পাচার করা হচ্ছিল। মানিকছড়ি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় লরির পেছনের ঢাকনা খুলে ৩০০ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় লরিচালককে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া কাঠের দাম আনুমানিক ৪ লাখ টাকা।
এদিকে আটককৃত চালক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে এই ধরনের তেলের লরির মাধ্যমে এরআগেও একাধিকবার কাঠ পাচার করেছে সিন্ডিকেট চক্র। শহরের আসামবস্তি এলাকা থেকে এই কাঠ গাড়িতে লোড করে পাচার করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই অপকর্মের সাথে জড়িত কয়েকজনের নামও জানিয়েছে আটককৃত চালক আব্দুস শুক্কুর। এবিষয়ে বন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •