মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কোভিড-১৯ রোগীকে প্লাজমা থেরাপি দিয়ে সুস্থ করার জন্য যে ২টি অত্যাবশ্যকীয় মেশিন দরকার, তার অন্যতম প্রধান মেশিনটা হলো “ব্লাড সেল সেপারেটর” মেশিন। অপরটি হলো- ব্লাড সেল সংরক্ষন করার মেডিকেল রেফ্রিজারেটর।

প্লাজমা থেরাপি হলো- সুস্থ হয়ে যাওয়া, এন্টিবডি সৃষ্টি হওয়া আগে করোনা আক্রান্ত ছিল এমন ব্যক্তি থেকে রক্ত নিয়ে, সে রক্ত ব্লাড সেল সেপারেটর মেশিন এর মাধ্যমে ব্লাডের রক্ত কনা ফেলে দিয়ে জলীয় অংশ পৃথক করে সেটা একটা বিশেষ পদ্ধতিতে অসুস্থ করোনা রোগীর দেহে প্রয়োগ করা হয়। এন্টিবডি সৃষ্টি হওয়া ব্যাক্তি থেকে সংগ্রহ করা সে রক্তের জলীয় অংশের প্রয়োগের কারণে করোনা রোগী অপেক্ষাকৃত দ্রুত এবং সহজে সুস্থ হয়ে যায়। এটাই ‘প্লাজমা থেরাপি’ নামে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পরিচিত।

একজন বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে যাওয়া একজন করোনা রোগী থেকে নেওয়া রক্ত নিয়ে তিন ইউনিট পর্যন্ত জলীয় অংশ সৃষ্টি করা যায় এবং তা ৩জন করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহে প্রয়োগ করে করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করা যায়। করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এই প্লাজমা থেরাপি সারা বিশ্বে এখন ৭০% ভাগ থেকে ৮০% ভাগ পর্যন্ত সফলতা পেয়েছে।

কক্সবাজার জেলার কোথাও আগে এই ব্লাড সেল সেপারেটর মেশিন ছিলোনা। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কক্সবাজার জেলা সদর সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর সংযোজিত হয়েছে কক্সবাজারবাসীর বহুল প্রত্যাশিত অত্যাধুনিক “ব্লাড সেল সেপারেটর” মেশিন। নতুন সংযোজিত ব্লড সেল সেপারেটর মেশিনটি কার্যক্রম বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ কার্যক্রম সমন্নয়কারীর দায়িত্বরত স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এই ব্লাড সেল সেপারেটর মেশিন সংযোজনের মাধ্যমে কক্সবাজারে এখন প্লাজমা থেরাপি চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু করতে আর কোন সমস্যা নেই এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল চিকিৎসা ব্যাবস্থা আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো বলে উদ্বোধনকালে মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ।

উদ্বোধনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান, মহেশখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল প্রমুখ।

প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা দামের আধুনিক ব্লাড সেল সেপারেটর মেশিন দেশের জেলা সদর হাসপাতাল গুলোর মধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এই প্রথম সংযোজিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •