সিবিএন ডেস্ক:
সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লাটারির মাধ্যমে। এই ভর্তির সময় ভর্তি ফি ছাড়া অন্য কোনও ফি নেওয়া যাবে না। বুধবার (২৫ নভেম্বর) এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে টিউশন ফি ও অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারী ও কম্পিউটার ফি নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে আগে থেকেই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যারা নতুন করে ভর্তি হবে, তাদের ভর্তি ফি নেওয়া যাবে। তবে ভর্তির সঙ্গে বার্ষিকসহ অন্যান্য ফি নেওয়া যাবে না। আর নতুন ক্লাসে যারা উত্তীর্ণ হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রেও বার্ষিক চার্সহ অন্য ফি নিতে পারবেন না। তবে করোনার পর যদি স্বাভাবিক অবস্থা আসে, তখন যেসব কার্যক্রম করা যাবে, সেই সাপেক্ষে ওইসব কার্যক্রমের ফি নিতে পারবেন।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীও সংযুক্ত ছিলেন।

গত ১৮ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি ছাড়া অন্য কোনও ফি আদায় করা যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এছাড়া অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারি ও কম্পিউটার ফি নেওয়া যাবে বলে জানানো হয়। তবে আরও বলা হয়, যদি কোনও অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে পতিত হন, তাহলে বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নেবেন। কোনও শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনও কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।

এবার করোনার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রতি শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যোগ্যতার চাইতে ভাগ্যকে প্রাধ্যান্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা বাধ্য হয়েই এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ক্যাচমেন্ট কোটা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাস্টারভিত্তিক লটারিতে ঢাকার শিক্ষার্থীরা একটির জায়গায় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করার সুযোগ পাবে।

প্রতি বছর প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। আর জেএসসি-জেডিসির ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। করোনার কারণে এবার অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করায় এবার সেই সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা তিনটি বিকল্প খতিয়ে দেখেছি। এর একটি হচ্ছে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। এমসিকিউ পদ্ধতির কথা চিন্তা করেছি, কিন্তু তাতেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হতো। অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নিলে সবার জন্য নিরাপদ হলেও সব শিক্ষার্থীর অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই এটি যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। সবার ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, আবার সংযোগেও সমস্যা আছে। তাই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির সামগ্রিক প্রক্রিয়া জানিয়ে দেওয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •