সিবিএন ডেস্কঃ
চট্টগ্রামের মেয়ে নাহিয়ান তাফান্নুম। শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামের লালখানবাজার এলাকায়। পড়ালেখা করেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয়ে। এই স্কুল থেকে ২০১৬ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। মাধ্যমিক পাশ করে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। হারিয়েছেন মায়ের আদর। মা শাকেরা বেগম ছিলেন পটিয়া উত্তর দেয়াং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
জীবনের প্রথম মোড়ে মা’কে হারিয়ে থেমে যান নি তিনি। চলেছে নিজ উদ্যমে, হার না মানা এ তাফান্নুম ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। যদিও বোট্যানি বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে। প্রথম বর্ষ শেষ না করেই ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পাড়ি জমান সূদুর কানাডার ‘টরেন্টো বিশ্ববিদ্যলয়ে’। শুরু করেন ‘কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এন্ড সফটওয়্যার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিষয়ে অধ্যয়ন। নতুন দেশ নতুন সব মানুষের ভীড়ে আবিষ্কার করতে থাকেন নিজেকে। সবই নতুন মুখ, কার সাথে কেমন হবে তা বুঝে উঠতে না পেরে সিদ্ধান্ত নেন স্বনির্ভর হবার।
অধ্যয়নের প্রথম বর্ষে পড়ালেখার ফাঁকে স্বনির্ভর হতে কাজের জন্য আবেদন পত্র জমা দেন মার্কিন বৃহত্তম ইন্টারনেট ভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা বাণিজ্য কোম্পানি ‘অ্যামাজনে’। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা সরকার সপ্তাহে ২০ ঘন্টা পার্ট-টাইম কাজের ব্যবস্থা রাখেছে। সে সুবাদে তিনি এ সুবিধা নিতে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। শত চড়াই উৎরাই পার করে তিনি সপ্তাহব্যাপী অ্যামাজন কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে এগিয়ে যান নিজের লক্ষ্যের দিকে। গেল সপ্তাহে তিনি নিয়োগ পান অ্যামাজনের হেল্প ডেস্কের।
মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে ২১ বছর বয়সে বিশ্ববিখ্যাত এ অনলাইন বাণিজ্য কোম্পানিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান করে নিলেন তাফান্নুম। বাংলাদেশি নারীর ক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করবেন এমন একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে। ইতিমধ্যে এ কোম্পানির বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অংশীদারও হয়েছেন তিনি।
বলা চলে ‘বাংলাদেশ যেমন নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারী তেমনই পৃথিবীর আলোচিত স্থানে বাংলাদেশকে চেনাচ্ছে এই নারীরা।’ তাফান্নুমের এমন সফলতা শুধু তার পরিবারকে নয় বাংলাদেশকে ও বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি বাড়াবার লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
উৎফুল্ল কন্ঠে তাফান্নুমের বাবা সংবাদকর্মী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমার মেয়ে অ্যামাজনের মত একটি কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ পেয়েছে। আমার মেয়ের এমন সাফল্যের জন্য আমি বাবা হয়ে গর্বিত।’ -সিভয়েস।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •