সিবিএন ডেস্ক:
‘আমার থানা আমি সাজাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে কোতোয়ালী থানার মডেলে বদলে যাচ্ছে সিএমপি’র ১৬ থানা। সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের উদ্যোগে নগরের ১৬ থানাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এর জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন। আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব থানার সৌন্দর্য বর্ধনসহ কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে থানার ওসিদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিএমপির ১৬ থানাকেই নতুন করে সাজাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধনসহ অফিসাদের রুম-ডেস্ক উন্নয়ন, থানার আঙ্গিনার সৌন্দর্য বর্ধন করতে হবে। এজন্য ওসিদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে থানাকে প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সৌন্দর্য বর্ধনের এসব ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যে থানা যেভাবে আছে সেটাকে রি-মডেলিং করতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে খরচগুলো আমরা বহন করব। এর বাইরে যদি স্থানীয় বিত্তশালীরা থানার উন্নয়নে এগিয়ে আসেন সেটা ভিন্ন কথা। তবে আমি ওসিদের স্পষ্ট বলে দিয়েছি, কারো থেকে কোন চাঁদা নেওয়া যাবে না।’

গত ১৮ নভেম্বর সিএমপি কমিশনার সব থানার ওসিদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেন। সেখানে সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেছিলেন, ‘সিএমপির ১৬ থানাকে নতুন করে সাজাতে হবে। আমি দেখতে চাই আমার অফিসাদের রুচি কেমন? কাজ করতে গিয়ে আবার কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করা হোক তা দেখতে চাই না। থানাকে রি-মডেলিং করতে গিয়ে কেউ যেন অনিয়মে না জড়ায় সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমি সব থানা ভিজিট করব। থানা ভিজিট করে ভালো ও সুন্দর কাজের জন্য যেমন পুরস্কার দেওয়া হবে তেমনি খারাপ কাজ হলে তিরস্কারও করা হবে।’

সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে থানাগুলো কতটুকু রি-মডেলিং করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বেশ কয়েকজন ওসির কাছে। ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘কমিশনার স্যারের নির্দেশনা পেয়েই আমি থানাকে নতুন করে সাজাচ্ছি। আমার থানার সব কাজ শেষের দিকে। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে পারব।’

একই প্রসঙ্গে চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ‘স্যারের নির্দেশ পেয়ে আমরা আমাদের সামর্থ্য মতে চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে মাঠ ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়ে গেছে।’

মূলত যে থানাকে মডেল ধরে নতুন করে সাজানো হচ্ছে সিএমপির ১৬ থানা, সেই কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গতানুগতিক সরকারি অফিসের ধারণা পাল্টে আমার থানাকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছি, মানুষ যেন থানাকে ভয় না করে। থানা সম্পর্কে যত নেতিবাচক ধারণা আছে, সেই ধারণা পাল্টে দিতেই মূলত কর্মবান্ধব সৌন্দর্যময় থানা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

ওসি মহসীন আরও বলেন, ‘আশা করছি, থানায় আসা মানুষ এসব চিত্রকর্ম দেখে সচেতন হবেন, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। এছাড়া এখন ভালো পরিবেশ পাওয়ায় অফিসাররাও আগের চেয়ে ভালো ব্যবহার দিতে, কাজ করতে উৎসাহিত হবেন। ভালো পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা সর্বোত্তম সেবা দিতে চাই।’

প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগেও কোতোয়ালী থানার সীমানা দেয়াল ঘেঁষে যেখানে প্রস্রাব করতেন পথচারীরা, রাতের আঁধারে মলত্যাগ করতেন ছিন্নমূলের বাসিন্দারা, দিনের বেলা দুর্ভোগে সেই পথ পাড়ি দিতে হত পথচারীদের- এখন সেই দেয়াল সাজানো হয়েছে ফুলগাছ, গৌরবের ইতিহাস আর সচেতনতার বার্তায়। থানা প্রাঙ্গণের চোখ জুড়ানো দৃশ্যে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস, হয়েছে দৃষ্টি নন্দন গেট, সেবা ছাউনি। বদলে যাওয়া এ থানাকে নতুন করে সাজিয়ে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলেন ওসি মোহাম্মদ মহসীন।

৫৯টি নান্দনিক চিত্রকর্ম, দেয়াল লিখন ও অসংখ্য ফুলগাছ দিয়ে কোতোয়ালী থানার ভেতরে-বাইরে সাজানো হয়েছে। রাতের বেলা লাইটের আলোয় এ দৃশ্য মানুষের মনে মুগ্ধতা ছড়ায়, রূপ পায় পর্যটন স্পটের। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় গেটের সামনে দিয়ে কোতোয়ালী মোড়ের দিকে হেঁটে যেতেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর অগ্নিঝরা ৭ মার্চের ভাষণের একটি নান্দনিক চিত্রকর্ম। থানার সীমানা দেয়ালে তুলে ধরা ওই নান্দনিক চিত্রে দেখা যায়, তর্জনী উচিয়ে জনসমুদ্রে ভাষণ দিচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে জঙ্গিবাদে না জড়ানোর আহ্বান, ইভটিজিং না করার আহ্বান, গুজব না ছড়ানোর আহ্বান, বাড়ির মালিককে সতর্ক করে ভাড়াটিয়া সম্পর্কে খোঁজ রাখার অনুরোধ জানিয়ে নানা বার্তা লেখা হয়েছে।

এছাড়া সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য কোতোয়ালী থানা প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘সেবা ছাউনি’। ফলে সেবা নিতে এসে এখন আর কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে কিংবা এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে না। এদিকে থানার অভ্যন্তরে উপ-পরিদর্শকদের কক্ষটিও করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন। দেখে বুঝার উপায় নেই, এটা থানা নাকি বহুজাতিক কোনো কোম্পানীর অফিস। -সিভয়েস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •