আতিকুর রহমান মানিকঃ
কক্সবাজার জেলাব্যাপী সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ত পানির ঘেরে চাষ হচ্ছে মিঠাপানির মাছ। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানিতে বাগদা চিংড়ির সাথে মিঠাপানির কার্পজাতীয় মাছে সাফল্যের মুখ দেখছেন চাষী ও উদ্যোক্তারা।

জেলাব্যাপী গত মে-জুন মাস থেকে শুরু হয়েছে বাগদা চিংড়ি চাষ ও উৎপাদন। প্রতিবছরের মত এ চাষ চলবে ডিসেম্বর নাগাদ। চলতি চিংড়ি উৎপাদন মৌসুমে বাগদা চিংড়ির সাথে মিঠাপানির অন্যান্য প্রজাতির মাছের মিশ্রচাষ করেছেন চাষী ও উদ্যোক্তারা। আর এতে এসেছে ব্যাপক সফলতা।

লবনাক্ত পানির বাগদা চিংড়ির সাথে চাষকৃত মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন বড় হওয়ায় আহরণ ও বাজারজাত করা হচ্ছে । মাছ চাষের নতুন এ ধারার সফলতা চাষিদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টির পাশাপাশি বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করেছে এ সেক্টরে।

চাষী ও উদ্যোক্তারা জানান, দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ পেকুয়া, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ এবং সদর উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বিগত মে মাসে চিংড়ি উৎপাদন মৌসূম শুরু হয়। ঘের প্রস্তুতির পর লবনাক্ত পানিতে বাগদা চিংড়ি পোনা মজুদ করেন চাষীরা। এর ১০/১৫ দিন পর বর্ষার প্রবল বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের ফলে জুন মাসের প্রথমার্ধ থেকে সমুদ্রের পানির লবনাক্ততা কমে যায়।

চিংড়ি চাষ বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট এ্যাকুয়া কনসালটেন্সি সূত্র জানায়, বর্ষায় বৃষ্টি শুরু হলে ঘেরের পানির স্বাভাবিক লবনাক্ততা ১৫/২০ পিপিটি থেকে কমতে কমতে তখন থেকে মাত্র ২/৩ পিপিটি বা ক্ষেত্র বিশেষ জিরো পিপিটিতে নেমে আসে। এমতাবস্হায় বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ঘেরে মনোসেক্স তেলাপিয়া, গিফট তেলাপিয়া, রুই মাছ, মৃগেল মাছ, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, রেড কার্প ও আরো অপরাপর কার্প জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করেন উদ্যোক্তা ও খামারীরা। ঘেরের পানিতে সামান্য লবনাক্ততা থাকলেও তা এসব মিঠা পানির মাছ বেড়ে উঠায় প্রতিবন্ধক হয়নি। বরং বাগদা চিংড়ির সাথে সামান্তরাল ভাবে বেড়ে উঠা এসব মাছ এখন আহরন উপযোগী হয়েছে।

বিশেষ করে তেলাপিয়া মাছ ও কার্প গোত্রীয় মাছ এখন প্রতিদিন আহরন করে হাট-বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চিংড়ি প্রজেক্ট দক্ষিণ ঘোনা, হাফেজী ঘোনা, বাইক্কা ছড়া, মসজিদের ডিয়া, বাহিরের ঘোনা ও আবুল আহমদের ঘোনাসহ বিভিন্ন চিংড়ি প্রজেক্টে এখন বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি মিঠা পানির মাছ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন চাষীরা। চিংড়ি চাষী ফরিদ মিয়া জানান, আহরিত তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ১২০/১৫০ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে।

মিশ্র চাষের কার্প জাতীয় মাছও প্রজাতিভেদে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী ওসমান গনি জানান, জাতীয় মাছ ইলিশের প্রজনন মৌসূমে গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সামুদ্রিক মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। তখন সাগরে মৎস্য আহরন নিষিদ্ধ হওয়ায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের অকাল সৃষ্টি হলেও মিশ্র চাষের এসব মাছ চাহিদার অনেকটাই পুরন করছে।

সদর উপজেলার গোমাতলীর ঘের মালিক হান্নান মিয়া বলেন, করোনা দুর্যোগের ফলে বিশ্ব বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা ও রপ্তানী কমে যাওয়ায় চলতি মৌসূমে চিংড়ির দাম আশানূরূপ পাওয়া যাচ্ছেনা। এ পরিস্হিতিতে ঘেরে চাষকৃত কার্প প্রজাতির মাছ বিক্রি করে বিনিয়োগের অনেকটাই উঠে এসেছে।

বাগদা চিংড়ি ও কার্পজাতীয় মাছ চাষে লাভের মুখ দেখা খামারী-চাষী ও ঘের মালিকরা বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় সমুদ্রের পানির লবনাক্ততা কমে যায়, তাই এখন থেকে প্রতি বছর ঘেরে বাগদা চিংড়ির সাথে অপরাপর প্রজাতির মাছ চাষ করা হবে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় চাষী, খামারী ও উদ্যোক্তাদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •