মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়ায় বিশ হাজার মানুষের চলাচল সড়কে ওভার ব্রিজের দাবী ওঠেছে। রেল লাইন প্রকল্পের কাজে চলাচল সড়ক বন্ধের প্রতিবাদ ও ওভার ব্রিজের দাবীতে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে ও জন যাতায়াত সড়ক সুগম করতে উপজেলার ডুলাহাজারায় এ দাবী উঠে।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে পবিত্র জুমা’র নামাজের পর দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পে ডুলাহাজারা ইউনিয়নস্থ উলুবনিয়া গ্রামের জনগণ এ প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে কৃষিজীবী, শ্রমজীবী, পেশাজীবি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিতিদের বক্তব্যে জানা যায়, দীর্ঘ সময় পরে কক্সবাজার জেলাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ৪২ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে এবং ২০২২ সালের জুনে এটি চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারের এ উন্নয়নে কৃতজ্ঞতা জানায় উলুবনিয়া গ্রামের জনগণ।
অপরদিকে রেললাইন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত কাজের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে ওই গ্রামের জনসাধারণ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া গ্রামের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম দশ ফুট প্রশস্ত দুই কিলোমিটার সড়ক। প্রতিনিয়ত প্রায় বিশ হাজার মানুষের চলাচল এ সড়ক দিয়ে। চলমান প্রকল্পের রেল লাইনটি উলুবনিয়া গ্রামের যোগাযোগ সড়কের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করছে। তবে সংশ্লিষ্ট টিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুই সড়কের সংযোগস্থলে কোনপ্রকার বিকল্প ব্যবস্থা করেনি।
বর্তামানে এই সংযোগ স্থানে উলুবনিয়া গ্রামে যাতায়াতে যানবাহনগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অনেকে। সংযোগ সড়কে যদি বিকল্প ব্যবস্থা করা না হয়, তাহলে বিশ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হবে এবং দেশের অর্থকরী ফসল চিংড়ী ও লবণ উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়ে চরম ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া উলুবনিয়া গ্রামের সাথে দেশ বিদেশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধের আশংকা করা হচ্ছে।
করোনা পরিস্থিতির পর বর্তমানে রেল লাইন প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা হলে স্থানীয় জনগণ বিকল্প চলাচল ব্যবস্থায় ওভার ব্রিজের দাবীতে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। দাবী মানা না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ চলবে বলেও কঠোর হুশিয়ারী দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •