মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া:
করোনাভাইরাসের বিস্তার কমাতে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’, অর্থাৎ মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকে কোন সেবা দেয়া হবে না বলে নির্দেশনা জারি হলেও মানছেন না জনসাধারণ।এরমধ্যে দিয়ে মূলত সরকারি বেসরকারি অফিস, হাট-বাজার, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মেলনে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
করোনা অতিমারি নিয়ে পৃথিবী একটি বছর পর করতে চলেছে। এরই মধ্যে আগের জীবনে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। মৃত্যুভয়কে পেছনে ফেলে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে। এরমধ্যেই চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। আমাদের দেশেও দ্বিতীয় ঢেউ চেপে বসছে। বারবার সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও কাজ হচ্ছে না কিছুতেই। নো মাস্ক নো সার্ভিস যেন মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে অভ্যাসে পরিণত করতে পারছে না। চলতি মাসের শুরু থেকেই বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শীতের আগমন বা স্বাস্থ্যবিধি মানার অনীহার কারণেই করোনার পরিস্থিতি এমন হচ্ছে। শীতের সতর্কতা বহু আগেই দেওয়া হয়েছে। তার পরও কারো এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব আছে চারদিকের পরিস্থিতি দেখে এমনটা মনে হয় না। এরই আলোকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত ও সর্বসাধারণকে সচেতন করতে মাস্ক বিতরণ করেছেন (কক্সবাজার-১) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ অনার্স এমএ এমপি।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সাহারবিল, ইলিশিয়া,চকৱিয়া পৌরশহর এবং পেকুয়া উপজেলাৱ বিভিন্ন এলাকায় স্ব-শরীরে হাট-বাজার কিংবা দোকানপাটে সহস্রাধিক পথমানুষদের মাক্স পৱিয়ে দেন সাংসদ জাফর আলম। এমপির ব্যক্তিগত সহকারী সালেহ আহমদ সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে জাফর আলম এমপি বলেন, প্রথম দিকে সংক্রমণ ঠেকাতে দেশগুলো লকডাউনের পথে হেঁটেছিল। কোনো কোনো দেশে দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দেওয়ার পর কোনো শহরে লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে লকডাউন আর হয়তো হবে না। প্রথমবার লকডাউনের পর জীবিকার কারণে স্থবির অর্থনীতি সচল করার জন্য সবকিছু খুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই এভাবে চলছে। করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ চলছে পুরোদমে। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন চূড়ান্ত ধাপের শেষ দিকে। আশা করা যায়, দ্রুতই তা কার্যকরভাবে সবার জন্য প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। কিন্তু সেটা কত দেরি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ এ নিয়ে তাড়াহুড়োর সঙ্গে কিছু করা সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত প্রতিষেধকহীন এই রোগ থামাতে শুরু থেকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। এজন্য শুরু থেকেই পৃথিবীর সব দেশ জোর দেয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত বারবার সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা, হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকা বা সংস্পর্শে না আসা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে দেওয়া, কাপড়-চোপড়সহ সবকিছু জীবাণুমুক্ত রাখা ইত্যাদিসহ আরো বেশ কিছু নিয়মকানুন। এসব করার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করা। তা সত্ত্বেও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। প্রথম দফা সংক্রমণ শেষে কোনো দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ হচ্ছে। যখন মনে হচ্ছে করোনাভাইরাস বিদায় নিয়েছে, তখন নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ সময়টাতে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনা চলাৱ আহ্বান জানান এ সাংসদ ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •