মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের লালদীঘির দক্ষিণ পাড় থেকে পূর্ব পাড় (হোটেল প্যানোয়া রোড) এ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর নির্মিত সুরম্য অট্টালিকায় সরানো হচ্ছে শীর্ষ রাজনৈতিকদলের ৩টি ও একটি ছাত্র সংগঠনের জেলা কার্যালয়। ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কার্যালয় কউক এর নতুন ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ৩টি রাজনৈতিক দলের শহরের লালদীঘির দক্ষিণ পাড়স্থ পুরাতন কার্যালয় গত সপ্তাহে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়টি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্থানান্তরিত করা হবে এবং আগামী শুক্রবার ২৭ নভেম্বর নতুন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যালয় শুরু করা হবে জানিয়েছেন কক্সাবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। লালদীঘির পূর্ব পাড়ে কউক নির্মিত ভবনে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্পেস গত ১৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ পরিদর্শন করেছেন করেছেন বলে জানান- দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রনজিত দাশ। তিনি বলেন, নতুন কার্যালয়ে উঠার জন্য তাঁরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্বস্থ সুত্র মতে, কউক নির্মিত ভবনটির দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে জেলা জাতীয় পার্টি’কে প্রায় ৮০০ বর্গফুট স্পেস, একইতলার মাঝখানে জেলা ছাত্র ইউনিয়নকে সাড়ে ৩০০ বর্গফুট স্পেস এবং জেলা জাসদ-কে প্রায় ৮০০ বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, ভবনটির পুরো তৃতীয় তলা মোট প্রায় ১৯০০ বর্গফুট স্পেস জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে কউক। ইতিমধ্যে নতুন ভবনের চাবি গুলোও কউক কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত রাজনৈতিক দল গুলোর কাছে হস্তান্তর করেছেন।

জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মফিজুর রহমান তাদের সংগঠনের জেলা কার্যালয়ের জন্য পাকা দালান বরাদ্দ দেওয়ায় কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ এর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রনজিত দাশ জানান, লালদীঘির দক্ষিণ পাড়ের তাদের সংগঠনের আগের কার্যালয় গুলো কক্সবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এখন কউক কর্তৃপক্ষ থেকে কার্যালয় গুলো কি ভাড়ায় নিয়েছেন, নাকি ইজারা নিয়েছেন, নাকি রেজিষ্ট্রেশন করে নিয়েছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, বিধি মোতাবেক কউক যে পদ্ধতি অবলম্বন করে কার্যালয় গুলো তাদের সংগঠনকে দেন, সেটা তারা মেনে নেবেন। একই কথা বলেছেন-জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মফিজুর রহমানও।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরের তিনটি দীঘি যথাক্রমে লালদীঘি, গোলদীঘি ও বাজারঘাটা নাপিতা পুকুরের সত্বাধিকারী হলো কক্সবাজার পৌরসভা। উন্নয়ন ও সৌন্দয্যবর্ধন কাজ করতে দীঘি ৩টি কক্সবাজার পৌরসভা থেকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) তিন বছরের জন্য নিয়েছিলো। উন্নয়ন ও সৌন্দয্যবর্ধন কাজ শেষ হলে কউক আবারো উল্লেখিত দীঘি ৩টি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •