মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারের কৃতিসন্তান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (বিধি, সেবা ও আইন অধিশাখা) শফিউল আজিম এর ৫৩তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার ১৮ নভেম্বর। ১৯৬৭ সালের এদিনে কক্সবাজার শহরের পূর্ব টেকপাড়ায় এক ঐতিহ্যবাহী বুনিয়াদি পরিবারে জম্মগ্রহন করেন তিনি।

কক্সবাজারের কৃতি সন্তান, কক্সবাজার পৌরসভার পূর্ব টেকপাড়ার মরহুম ডাঃ আজিম উদ্দিন আহমেদ ও সালেহা আজিমের সন্তান শফিউল আজিম ১৯৬৭ সালের ১৮ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের পূর্ব টেকপাড়ায় এক ঐতিহ্যবাহী বুনিয়াদি পরিবারে জম্ম। ৭ ভাই, ৭ বোনের মধ্যে শফিউল আজিম ভাইদের মাঝে ষষ্ঠ। কক্সবাজারের গর্বের ধন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম ১৯৮৫ সালে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ হতে কৃতিত্বের সাথে এইসএসসি এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৪ সালে আইন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সাথে। এরপর ১৯৯৫ সালে শফিউল আজিম ১৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সবচেয়ে বুনিয়াদি ও সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী ক্যাডার হিসাবে পরিচিত বিসিএস (প্রশাসন) এর সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন। চাকুরীজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ পান। অত্যন্ত মেধাবী, সৎ ও চৌকষ কর্মকর্তা শফিউল আজিম কুমিল্লা জেলা প্রশাসনে সহকারী সচিব ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব), তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী ও গীতি আরা সাফিয়া’র একান্ত সচিব (উপসচিব), সাবেক আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ’র একান্ত সচিব (উপসচিব) হিসাবে দীর্ঘ ৫ বছর দক্ষতা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শফিউল আজিম সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনষ্ঠিটিউটের উপ পরিচালক ছিলেন। এরপর তিনি কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ও ব্রুনাই এর দারুস সালামে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সিলর হিসাবে দু’টি দেশে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্র ও উভয় দেশের প্রবাসীদের কাছে প্রশংসিত হন। শফিউল আজিম উপসচিব হিসাবে সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারের যুগ্মসচিব হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে শফিউল আজিম মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (বিধি, সেবা ও আইন অধিশাখা) হিসাবে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর যোগদান করে অধ্যাবদি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন সুনামের সাথে। একজন গতিশীল ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসাবে শফিউল আজিমের সুনাম রয়েছে জনপ্রশাসনের সর্বত্র। শফিউল আজিম জনপ্রশাসন বিষয়ে বিদেশী মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও একই বিষয়ে বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অনেকবার।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের নির্বাচিত সভাপতি দরিয়ানগরের ভূমি সন্তান শফিউল আজিম।

কক্সবাজারবাসীর গৌরব শফিউল আজিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিষয়ে অনার্স মাষ্টার্স করা আয়েশা আলী’কে ১৯৯৭ সালে জীবনসঙ্গিনী হিসাবে বেচে নেন। আয়েশা আলী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। শফিউল আজিম-এডভোকেট আয়েশা আলী দম্পতি নাহরীন তাজরী নামক একমাত্র কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক ও জননী। নাহরীন তাজরী লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ-এর এলএলবি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

নির্লোভ, নিরহংকার, সজ্জন, অত্যন্ত অমায়িক শফিউল আজিম তাঁর ৫৩তম জন্মবার্ষিকীতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •