মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের ৫৪ তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার ১৮ নভেম্বর। কক্সবাজারের রাজনীতির মাটি ও গণমানুষের সাথে মিশে যাওয়া পরিশ্রমী এই রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা, বিস্ময়কর মেধাসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব, শিল্পে নতুনত্ব সৃষ্টির অসাধারণ কারিগর, নিরিবিলি গ্রুপ অব কোম্পানিজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য সালেহা খানমের পুত্র। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোহাম্মদ ইসহাকের জামাতা।

লুৎফুর রহমান কাজল ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ভাই। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী যুবদল থেকে গড়ে উঠা এই রাজনীতিবিদ কক্সবাজার জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন কৃতিত্বের সাথে।

লুৎফুর রহমান কাজল ১৯৮০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পন করেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন, ১৯৮৬ -৮৭ সালে জেলা ছাত্রদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লুৎফুর রহমান কাজল জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সাল হতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সভাপতি ও একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী সদস্য, ২০০৩ সালে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০০৮ সালে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ২০১৬ সালে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন সফলতার সাথে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়ে একই আসনে একই দলের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করা সত্বেও লুৎফুর রহমান কাজল বিপুল ভোটের ব্যবধানে মহাজোটের প্রার্থীকে হারিয়ে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে লুৎফুর রহমান কাজল ২০ দলীয় জোটের আবারো মনোনয়ন পান। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ও জামাতা হয়েও তৃনমুল পর্যায় থেকে তিনি নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন।

লুৎফুর রহমান কাজল বিভিন্ন ব্যবসায়িক, শিক্ষা, কল্যাণকর ও বাণিজ্যিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারমধ্যে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত শ্রীম হ্যাচারী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে সংগঠনটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি, ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি, ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত লায়ন ক্লাব অব কক্সবাজারের প্রেসিডেন্ট, ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য, কক্সবাজার বিসিক শিল্প নগরী মিল মালিক সমিতির ২০০৭ সাল থেকে অধ্যাবদি দায়িত্বে রয়েছেন। দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী, অদম্য সাহসী লুৎফুর রহমান কাজল ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমেরিকা, জাপান, ভারত, মিয়ানমার, হল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইওয়ান, সৌদিআরব, নামিবিয়া সহ আরো অনেক দেশ সফর করেছেন। তিনি পবিত্র হজ্জও পালন করেছেন। তিনি উমারাহ হজ্জ পালন করেছেন অনেকবার।

অসাধারণ কর্মীবান্ধব, গণমানুষের সাথে অতি সহজে মিশে যেতে পারা লুৎফুর রহমান কাজল জীবনসঙ্গিনী হিসাবে বেচে নিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসহাকের কন্যা শিরিন রহমানকে। লুৎফুর রহমান কাজল ও শিরিন রহমান দম্পতি তাহসিন লুৎফুর ও সাঈফ রহমান নামক ২ পুত্র সন্তানের জনক ও জননী।

লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর ৫৪ তম জন্মদিনে নিজবাড়িতে অন্তরীণ থাকা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে তাঁর জীবনের সবটুকু সময়, মেধা, শ্রম উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিবিএন-কে বলেন, কক্সবাজার সদর-রামু উপজেলার সর্বস্থরের মানুষের ভালাবাসার ঋন আমি কখনো শোধ করতে পারবোনা। তাদের ভাগ্যন্নোয়নে, সুখ দুঃখের সাথী হয়ে সারাজীবন তাদের হৃদয়ে তাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই। এজন্য তিনি মহান আল্লাহতায়লার কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করে সদর-রামু’র মানুষের জন্য অবিরাম কাজ করে যেতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। সেই সাথে তিনি দোয়া চেয়েছেন রামু-সদরের সকল মানুষের জন্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •