ইনানীতে অসহায় বয়োবৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পায়তারার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:৪৪ , আপডেট: ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:১৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


১৭ নভেম্বর, ২০২০ সংবাদ সম্মেলনের ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উখিয়ার জালিয়া পালং ইউনিয়নের নিদানিয়ায় চিহ্নিত ভূমিদস্যু জামায়াত নেতা ছৈয়দ আলমের নেতৃত্বে একটি জালিয়াত সিন্ডিকেট একই এলাকার ৭৩ বছরের অসহায় বয়োবৃদ্ধের জমি আত্মসাতের পায়তারা করছে। অসাধু সিন্ডিকেটটি ইতোমধ্যে জাল দলিল তৈরি করে ছৈয়দ আহমদের জমি নিজেদের বলে দাবি করছে। অনেক কষ্টার্জিত জমি প্রতারক চক্রের কবল থেকে উদ্ধার করতে ন্যায়বিচার ও জালিয়াত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে বয়োবৃদ্ধ ছৈয়দ আহমদ। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বয়োবৃদ্ধ ছৈয়দ আহমদ লিখিত বক্তব্যে জানান, এই প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন সময়ে আমার নিলাম ইজারা মূলে ক্রয়কৃত ০২.৬৪ একর পরিমাণের জায়গাটি আত্মসাৎ করার জন্য জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দলিল সৃজন করে আত্মসাৎ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই চক্রটি নানা অপচেষ্টা চালিয়েও যখন আমার জায়গাটি আত্মসাৎ করতে পারেননি। বর্তমানে এই প্রতারক চক্রটি আমাকে এবং আমার অলি ওয়ারিশানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
ছৈয়দ আহমদ আরও বলেন, আর,এস, ৮৩৯ নং খতিয়ানের ০৪/০৯/১৯৪৫ ইংরেজি তারিখে ৫৫৪ নং কবলা মূলে ছৈয়দুর রহমান মালিক হন। উক্ত ছৈয়দুর রহমানের নামে এম,আর,আর, ৮৬৪ নং খতিয়ান প্রচারিত হয়। এম,আর,আর,৮৬৪ নং খতিয়ানভুক্ত আর,এস, ৩৭৮, ৩৭৯,৩৮০ ও ৩৮১ দাগাদির মোট ০২.৬৪ একর জমির খাজনা অনাদায়ীর কারণে ছৈয়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৪৭/১৯৮১—৮২ইং নং সার্টিফিকেট মোকদ্দমা হয়। উক্ত সার্টিফিকেট মোকদ্দমা মূলে ০২.৬৪ একর জমি নিলামে উঠে। ২৫/০১/১৯৮৩ ইং তারিখ ০২.৬৪ একর জায়গাটির সর্বোচ্চ নিলাম মূল্য ডাককারী হিসাবে উক্ত জায়গা নিলাম খরিদ করি এবং ২৫/০৩/১৯৮৩ ইং তারিখে নিলাম বহাল হয়। ২১/০৪/১৯৮৪ইং তারিখে আমাকে (ছৈয়দ আহমেদ পিং মৃত আবদুর রহমান) ভূমি বিক্রির সার্টিফিকেট ও বায়নানামা প্রদান করেন এবং নিলাম খরিদ মূলে উপরোল্লিখিত খতিয়ানের ০২.৬৪ একর জায়গার দখল বুঝিয়ে দেন। আমি উক্ত ০২.৬৪ একর জমির নিলাম খরিদ মূলে প্রাপ্ত হয়ে ১৯৮৪—৮৫ইং সালে ২২(১)নং মিউটেশন মোকদ্দমার হুকুম মতে এম,আর,আর, ৮৮৪ নং খতিয়ান হতে ছৈয়দুর রহমানের নাম কর্তন করে আমার নাম (ছৈয়দ আহমদ) লিপি করেন। এই প্রতারক চক্রটি আমার নিলাম খরিদা মূলে ক্রয়কৃত জমি আত্মসাৎ করার অপচেষ্টা হিসাবে ১৯৮৯ ইংরেজী সালে জনৈক নুর জাহান নিলামকে চ্যালেঞ্জ করে হকসফি’র আবেদনে মিচ ১/৮৯ ইং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মিচ মামলা মনজুর করলে তৎ বিরুদ্ধে আমি ( ছৈয়দ আহমদ) নিলাম খরিদদার জেলা জজ আদালতে মিচ আপিল ২৮/৯০ ইং দায়ের করি। উক্ত মিচ আপিল২৮/৯০ইং মামলাটি খারিজ করলে তৎ বিরুদ্ধে আমি নিলাম খরিদদার ছৈয়দ আহমদ মহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন ১৩৮০/৯৫ ইং দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত সিভিল রিভিশন মামলা ১৯৯৯ সালে মঞ্জুর করে বিজ্ঞ নিন্ম

আদালতের রায়—ডিক্রি খারিজ করে দেন এবং আমি (ছৈয়দ আহমদ) কতৃর্ক খরিদ কৃত নিলাম বহাল রাখেন। অর্থাৎ আমি (ছৈয়দ আহমদ) নিজেই নিজ নামে নিলাম খরিদের পর হতে অর্থাৎ ১৯৮৪ ইংরেজি সন হতে ১৯৯৯ইং সন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াই করে মালিক স্বত্ববান ও দখলকার অবধারিত থাকি। এরপর প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য আমার (ছৈয়দ আহমদ) চাচাতো ভাইয়ের ছেলে উখিয়ার নিদানিয়ার ছৈয়দ আলম দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে আমার জায়গাটি আত্মসাৎ করার কু—মানসে উঠে পড়ে লাগে। তারই অংশ হিসাবে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে ০৩/১১/১৯৮৩ইংরেজি তারিখের রেজিঃকৃত ৭২৭৭নং মুক্তিনামা দলিল প্রদান করে বলেন আমার ০২.৬৪ একর জায়গাটি তার বলে দাবী করেন। অথচ নিলাম খরিদদার মূলে সরকার কতৃক আমাকে সার্টিফিকেট ও বায়না নামা প্রদান করেন ২১/০৪/১৯৮৪ ইংরেজি সনে। প্রতারক ছৈয়দ আলম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুক্তি নামা দলিল সৃজন করলেন ১৯৮৩ সনে। তাছাড়া মুক্তিনামা স্বত্বের দলিল না। মুক্তিনামা মূলে কাহারো স্বত্ব জায়না কিংবা স্বত্ব আসেনা। উখজ ৫৩৯, ১৯ উখজ ৩৩. তিনি বলেন, সরকার আমাকে নিলাম খরিদদার মূলে উল্লেখিত জমির সার্টিফিকেট ও বায়নানামা প্রদান করেন ১৯৮৪ইং সনে। আর প্রতারক ছৈয়দ আলম সেই জমির মুক্তিনামা দলিল সৃজন করলেন ১৯৮৩ ইংরেজি সনে। সরকারের কাছ থেকে উল্লেখিত জমি খরিদ করার আগে কি করে আমি মুক্তি নামা দলিল প্রদান করলাম ? এই প্রশ্ন আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও প্রতারক ছৈয়দ আলমের কাছে রাখলাম।
ছৈয়দ আহমদ বলেন, এরকম জঘন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েও যখন আমার জায়গা দখল করতে পারেননি। তখন আরেক জাল—জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমার (ছৈয়দ আহমদ) স্বত্ব দখলীয় বি,এস ২১৫২ নং খতিয়ানের জমি আত্মসাৎ করতে আমার টিপ দস্তখত জালিয়াতি করে ০৫/০৫/১৯৯৯ইং তারিখে ৪৫৩নং একখানা রেজিঃকৃত দলিল সৃজন করেন। প্রতারক ছৈয়দ আলমের উক্ত জালিয়াতি প্রকাশ পেলে আমি বাদী হয়ে উখিয়া সহকারী জজ আদালত কক্সবাজার এ অপর ৯০/২০১২ইং নং মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত প্রতারক ছৈয়দ আলমের সৃজিত ৪৫৩ নং কবলায় উল্লেখিত টিপ—দস্তখত আমার কিনা প্রমাণ করার জন্য হস্তরেখা বিশারদের নিকট প্রেরণ করার আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশ মতে বাংলাদেশ পুলিশের সি,আই,ডি,র অঙ্গুলাংক বিশারদ এ,টি,এম, সাঈদুল ইসলামের নিকট প্রেরণ করলে তিনি প্রতিবেদন সহকারে তার মতামত বিগত

১২/০৯/২০১৩ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পেশ করেন। বিজ্ঞ আদালত উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে জবানবন্দি প্রদান করে তা পৃথক সিরিজ হিসাবে প্রদর্শনী চিহ্নিত করেন। উক্ত মতামতে আমার টিপসহি দস্তখতের সহিত ৪৫৩নং দলিলে উল্লেখিত টিপসহি—দস্তখতের সহিত মিল নেই মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ প্রতারক ছৈয়দ আলম ৪৫৩ নং দলিলটি জাল—জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করেছেন মর্মে বিজ্ঞ আদালতে প্রমাণিত হয়। পরে জালিয়াত চক্রের সদস্য প্রতারক ছৈয়দ আলম তাহার জালিয়াতি হতে রক্ষা পাবেনা জেনে বুঝতে পেরে তাদের জালিয়াতি চক্রের আরেক সদস্য জালিয়া পালং ইউনিয়নের নিদানিয়া এলাকার শাহ আলম (পিতা রশিদ আহমদ) নামের আরেক দালালের শরণাপন্ন হয়ে এক সিন্ডিকেট গঠন করে। সেই সিন্ডিকেট আমার সাথে আপোষ মিমাংসা করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। প্রতারক ছৈয়দ আলমের জালিয়াতি মেনে নিয়ে আমার (ছৈয়দ আহমদ) সাথে আপোষ হয়ে তাহা খরিদ করে বিজ্ঞ আদালতে সোলেহ নামা দাখিল করেন। দালাল শাহ আলম পরবর্তীতে আপোষের সম্পূর্ণ টাকা আমাকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আমাকে হয়রানি করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে উল্লেখিত প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সাক্ষী রেখে আমার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দঃবিঃ আইনের ৪২০, ৪০৬ ধারার অভিযোগ এনে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত—২, কক্সবাজারে সি,আর ৭৮/২০২০ইং নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলা তদন্ত করার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে গোয়েন্দা শাখার এ,এস,আই সাজিদুল ইসলাম ছৈয়দ আহমেদ এর নমুনা স্বাক্ষর গ্রহণকালে বলেন, এত বড় জালিয়াতি কিভাবে করল ছৈয়দ আলম ও তার সিন্ডিকেট। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। কেননা নমুনা স্বাক্ষর ও কথিত বায়নানামার স্বাক্ষর খালি চোখে দেখে যে কেউ বলতে পারবে বায়নানামায় উল্লেখিত স্বাক্ষর আমার (ছৈয়দ আহমদ) এর না। এ, এস, আই সাজেদুল ইসলাস (নিঃ) উক্তরুপ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন না করে সিন্ডিকেটের মৌখিক স্বাক্ষীর উপর ভিত্তি করে মোটা অংকের বিনিময়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান করেন। তিনি ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক আমার নিলাম খরিদকৃত জায়গা অধিগ্রহণ করেছে। উক্ত অধিগ্রহণ কৃত জায়গার এল,এ মামলা নং ০৭/২০১৮—১৯ ইং রোয়েদাদ নং ৪৩১ তফশিলঃ বিএস খতিয়ান নং ১০৪৬ ও বিএস দাগ নং ৩৪৪২। ০৭/২০১৮—১৯ইং নং এল,এ মামলার অধিগ্রহনকৃত জায়গার উপর যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, সেহেতু বর্ণিত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষকে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান না করতে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অপর ১৩৪/২০২০ইং নং মামলা দায়ের করা আছে।
ইনানী এলাকার জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা প্রতারক ছৈয়দ আলম আমার (ছৈয়দ আহমদ) জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য একের পর এক জালিয়াতি করে চলছে। টাকার জোরে ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বশে নিয়ে স্বত্ববিহীন দলিল মুক্তিনামা মূলে প্রতারক ছৈয়দ আলম এর নামে নামজারী খতিয়ান সৃজন করে তা মিশন গ্রুপ ও ইনানি এলাকার সৌদি প্রবাসী শাহেদ কে বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। পরবর্তী উক্ত নামজারি খতিয়ান মূলে মিশন গ্রুপ ও শাহেদ তাদের নামে নামজারী খতিয়ান সৃজন করেন। আমি উক্ত ফেরবী নামজারি খতিয়ান সমূহ বাতিল করার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজস্ব এর আদালতে নামজারী আপীল ৩৬/২০২০ ইং মামলা দায়ের করি। উক্ত মামলা বর্তমানে বিচারাধীনে আছে।
ছৈয়দ আহমদ আরও বলেন, বর্তমানে ছৈয়দ আলম ও তার অসাধু সিন্ডিকেট আমি এবং আমার পরিবারকে হত্যা, গুমসহ নানা হুমকী দিচ্ছে। এতে আমার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। বিষয়াদি বিবেচনা করে আপনাদের সুপরামর্শ ও ক্ষুরধার কলমের সহযোগিতা কামনা করছি। একই সাথে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যামান সমস্যা সমাধানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •