বিএনপির গোড়ায় গলদ, বাস পুড়িয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:৫১ , আপডেট: ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:০৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা

সিবিএন ডেস্ক:
বিএনপির গোড়ায় গলদ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দলটি বাস পুড়িয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। সরকারের কাছে প্রমাণ আছে, ভিডিও ফুটেজ আছে বিএনপির মিছিল থেকে বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি একথা বলেন।

সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সাম্প্রতিক নির্বাচন ও বাস পোড়ানোর ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে ঘটনা তদন্তে সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান।

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি আপনার কাছে পত্রিকা পাঠিয়ে দিচ্ছি মাননীয় স্পিকার। আজকের একটি পত্রিকায় খবর এসেছে। খবর এসেছে মামলার কথা বাদী জানেই না। সেখানে মামলা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি মাননীয় স্পিকার, ইশরাক হোসেন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত। জুয়েল কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত। ছাত্রদলের আরেক নেতা এক বছর ধরে চেন্নাই হসপিটালে চিকিৎসাধীন। তারা কীভাবে বাস পোড়ানোর মামলার আসামি হয় মাননীয় স্পিকার। আজকে পত্রিকায় ছবি এসেছে তিন বছরের শিশু তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। আদালতে কান্নাকাটি করছে সে, মুদিখানার দোকানে বসে ছিল। তাঁকে মামলার আসামি করা হয়েছে মাননীয় স্পিকার।’

জবাবে পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস পোড়ানার ঘটনায় বিএনপির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত রেকর্ডকৃত কথোপকথন শোনান। এ সময় শেখ হাসিনা জানতে চান, সরকার কি কখনো নিজের দুর্নামের জন্য সহিংসতা ছড়াতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী করানোকালে বিএনপিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে অসত্য তথ্য দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত না করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি সিটে নির্বাচন হচ্ছে, পট করে কয়েকটা বাসে আগুন দেওয়া। তারা নিজেরা আগুন দিয়ে দোষ দিচ্ছে এটা নাকি সরকারি এজেন্ট। আমরা আগুন দেব কী কারণে? আমরা ক্ষমতায় আছি। আমরা আগুন দিয়ে আমাদের সরকারকে বদনামের ভাগিদার করব কেন? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া তো আমাদের দায়িত্ব। টেকনোলজির কারণে হাতে হাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে কারা আগুন দিচ্ছে। নিজেরা আগুন-টাগুন দিয়ে পার্লামেন্টে এসে সরকারকে দোষারোপ করা হলো। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো, এটা তাদের অভ্যাস।’

বিএনপির সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ একটি পবিত্র জায়গা। বিএনপির সদস্যকে বলবো, এইভাবে এখানে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। এটা মানুষ বিশ্বাস করবে না। আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডটা যেন বিএনপি বন্ধ করে। এটাই আমার আবেদন থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতেই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তারা কষ্টে আছেন। তাদের সাহায্য করে যেতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, অর্থনীতির চাকাটা সচল রাখতে। আর সেখানে তারা এই সুযোগে চাচ্ছে— মানুষের দুঃসময়টাকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বদনাম করা। আর নিজেদের ফায়দা লুটা। এই ফায়দাটা লুটতে পারবে কিনা জানি না। কারণ, মানুষ এখন অন্ধ নয়। তারা সব দেখে-জানে। এ বিষয়টি বিএনপি নেতাদের বোঝা উচিত। টেকনোলজির কারণে সব ধরা পড়ে যায়। আমার মনে হয়, তারা আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •