cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড় থেকে পূর্বে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কের কাঙ্খিত উন্নয়নে সকলকে আন্তরিক সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন-কক্সাবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ এলডিএমসি,পিএসসি।

সোমবার ১৬ নভেম্বর কক্সাবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ (এলডিএমসি,পিএসসি) এর সাথে প্রধান সড়ক উন্নয়ন নিয়ে “কক্সবাজার উন্নত প্রধান সড়ক বাস্তবায়ন পরিষদ” এর একটি প্রতিনিধি দল তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ আহবান জানান।

তিনি বলেন, আগামী প্রজম্মকে সমৃদ্ধ কক্সবাজার উপহার দিতে উন্নত প্রধান সড়ক খুবই প্রয়োজন। কিন্তু কক্সাবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে এটা কখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রধান সড়কের দুপার্শ্বের জমি, ভবন ও মার্কেটের মালিক, ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, শহরের প্রধান সড়কের হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মুখস্থ ব্রীজ থেকে হলিডে মোড় পর্যন্ত সম্প্রতি একাধিকবার যৌথ সার্ভে এবং কউক এর নিজস্ব সার্ভে করা হয়েছে। সার্ভে-তে প্রধান সড়কের দুপার্শ্বের জমি, ভবন ও মার্কেটের মালিকেরা কোন সরকারী জমি দখলে নাই বলে প্রমানিত হয়েছে। প্রধান সড়ক পরিমাপ চলাকালে সড়কের দুপার্শ্বের জমি, ভবন ও মার্কেটের মালিকেরা আন্তরিক সহযোগিতা করায় তাদের ধন্যবাদ জানান-কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ (এলডিএমসি,পিএসসি)। তিনি কারো উড়ো কথায় কান নাদিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলার সময় প্রধান সড়কের দুপার্শ্বের জমি, ভবন ও মার্কেটের মালিকদের অতীতের মতো সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, পুরো প্রধান সড়ক বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) এর মৌজা ম্যাপ মতে পরিমাপ করে শুধুমাত্র ৩টি স্পটে প্রস্থে উন্নত সড়ক নির্মাণের মতো পরিমিত জমি পাওয়া যায়নি। এ ৩টি স্পটের জমির মালিকদের সম্ভব হলে উন্নত সড়ক নির্মাণের স্বার্থে সামান্য জমি ছাড় দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। বিএস মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী প্রধান সড়কের যেসব জায়গায় রাস্তা একেবারে সংকীর্ণ, সেসব জায়গায় প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি, ভবনের মালিকদের ডেকে তাঁদের সাথে ফলপ্রসু আলাপ করেই সেসব জায়গায় প্রধান সড়ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, সড়কের দু’পাশে কউকের প্রস্তাবিত উন্নত প্রধান সড়ক নির্মাণের জন্য কেউ তাদের ব্যক্তিগত জমি ছাড় দিলে ভবিষ্যতে উক্ত জমিতে প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার সময় সে জমি সেসময় অফিসিয়ালি হিসাবে এনে তা ছাড় দেওয়া হবে।

কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ (এলডিএমসি,পিএসসি) দৃঢ়তার সাথে আবারো বলেন-প্রধান সড়কের দুপার্শ্বের বর্তমানে স্থিত কোন ভবন, মার্কেট ও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নষ্ট কিংবা ক্ষতি করে কোন অবস্থাতেই উন্নত প্রধান সড়ক নির্মাণ করা হবেনা।

এসময় “কক্সবাজার উন্নত প্রধান সড়ক বাস্তবায়ন পরিষদ” এর প্রতিনিধিদল উন্নত প্রধান সড়ক নির্মাণে কউক- চেয়ারম্যান’কে বার বার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব:) ফোরকান আহমদ (এলডিএমসি,পিএসসি) বলেন, প্রস্তাবিত উন্নত প্রধান সড়ক অপ্রয়োজনীয় উঁচু করা হবেনা। বাস্তবতার সাথে সংঙ্গতি রেখে সড়কের লেভেল পজিশন, রাস্তার স্থায়িত্ব সুরক্ষা ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা দেখে যেখানে যতটুকু উঁচু করা দরকার, সেখানে শুধুমাত্র ততটুকু উঁচু করা হবে। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন উন্নত প্রধান সড়কের উচ্চতা নিয়ে প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি, ভবনের মালিকদের কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই।

সাক্ষাতকালে কউক চেয়ারম্যান এর সাথে অন্যান্যের মধ্যে কউক সচিব আবু জাফর রাশেদ (উপসচিব), অথরাইজড অফিসার রিশাদ উন নবী, সহকারী প্রকৌশলী ওয়াসিফুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা, কানুনগো শামীমুল ইসলাম, স্টাফ মো. সেলিম উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, কক্সবাজার শহরের হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মুখস্থ ব্রীজ থেকে পশ্চিমে লালদীঘির পূর্ব পাড় পর্যন্ত “কক্সবাজার উন্নত প্রধান সড়ক বাস্তবায়ন পরিষদ” এর প্রতিনিধি দলে প্রধান সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকার উভয়পার্শ্বের জমি ও ভবনের মালিকদের মধ্যে আসাদ কমপ্লেক্সের মালিক খোরশেদ আলম, সৈকত টাওয়ারের মালিক ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, রক্ষিত মার্কেটের মালিক ও এপিপি এডভোকেট তাপস রক্ষিত, বাজারঘাটা সাউথ ইস্ট ভবন এর মালিক ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (শিশু) ডা. নুরুল আলম, ফেমাস স্টীল মার্কেটের মালিক মাস্টার শফিকুল হক (এলএলবি) আইএফআইসি ব্যাংক ভবনের মালিক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, রশিদ কমপ্লেক্সের মালিক গোলাম মওলা, জ্বিলানী মার্কেটের মালিক এডভোকেট আবদুর রহমান, ডাচবাংলা ফার্স্ট ট্রেকের মালিক অরুণ পাল, কাসেম প্লাজার মালিক আবুল কাসেম, কক্সবাজার বিল্ডার্স ভবনের মালিক জিয়াউল হুদা, মোস্তফা ভবনের শাহরিয়ার হুদা টাইটেল, ইসলামিয়া ম্যানশনের মালিক ইউসুফ নওয়াব শাহ, স্টান্ডার্ট ব্যাংক ভবনের মালিক ইয়াসিন পারভেজ চৌধুরী, বশির মঞ্জিলের মালিক শাহ আলম, ফায়ার সার্ভিস জামে মসজিদের পক্ষে মাস্টার ডা. মোহাম্মদ আমিন, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান (টেকপাড়া), দুবাই মার্কেটের মালিক হারুনর রশিদ, আল মারুয়া ভবনের মালিক খোরশেদ আলম, মাওলানা ছৈয়দ করিম মার্কেটের মালিক পিয়ার মোহাম্মদ বাবুল, কোরালরিফ (পূর্ব অংশ) ভবনের মালিক নুরুল কবির চৌধুরী, পিপাশা হোটেল মার্কেটের মালিক ড. রোকেয়া বেগম, বেঙ্গল ট্রেডার্স ভবনের মালিক মাহমুদুল হক, কবির মার্কেটের মালিক এনামুল কবির, ইউসিবিএল ব্যাংক ভবনের মালিক হাজী আবদুশ শুক্কুর, মোহাম্মদ চেয়ারম্যান ভবনের মালিক এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, চৌরঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আল নিজাম হোটেলের মালিক আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক খাওয়া দাওয়া হোটেল ভবনের মালিক শহিদুল আলম সহ প্রধান সড়কের উভয় পাশের জমি, ভবন ও মার্কেটের অর্ধশতাধিক মালিক উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •