cbn  

শাহেদ মিজান, সিবিএন:
রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে মারা যাওয়া বন্য হাতিটিতে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে মারা হয়েছিলো। রোববার রাতে মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তে হাতিটিকে বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে বলে বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

রামু উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নায়েক এর বরাতে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তে হাতিটিকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মারার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া পায়ে একটা গুলির চিহ্নও রয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় গ্রামবাসী কেউ আশেপাশের বাড়ি ঘর থেকে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ পেতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, হাতিটি যেখানে মারা গেছে সেটি এলাকাবাসীর জোত জমি। এর পাশেই রয়েছে বন। আর আশেপাশে লোকজনের ঘরবাড়িও রয়েছে। এসব বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। কোনো বাড়িঘর থেকে লম্বা তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ঘটিয়ে হাতিটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বনবিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের আওতাধীন শাইরার ঘোনা নামক এলাকায় নুরুল হক নামের এক ব্যক্তি প্রায় ১০০ ফুট বৈদ্যুতিক তার চালিয়ে বনাঞ্চলে অবস্থিত তার প্রজেক্টে বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। ওই জায়গায় দিয়ে প্রায় সময় হাতির চলাচল করে। ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।

মারা হাতিটি প্রায় রাতের বেলায় লোকালয়ের কাছাকাছি এসে ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন ক্ষেত খেয়ে ফেলছে এবং নষ্ট করে ফেলছে। তাই এলাকার কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে হাতিটিকে হত্যা করেছে।

স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, যেখানে মৃত হাতিটি পড়ে রয়েছে সেটি জোত জমি। এর পাশেই বন। ঘটনাস্থলের প্রায় ২০০ মিটার দূরে বাড়িঘর রয়েছে। এসব বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। হাতিটিকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। যেকোন ভাবে হত্যা করার আলামত পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত দুই বছরে কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অন্তত ১২টি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •