cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কালেক্টরেট সহকারীদের পদবী ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরনের দাবিতে ১৫-৩০ নভেম্বর দীর্ঘ ১৬ দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও রোববার ১৫ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মবিরতি পালন করা হবে।

কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম ফরিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সারা দেশে এই কর্মবিরতিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, উপজলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মচারিদের গ্রেড ১৩-১৬ পদবি পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নীতকরনের দাবিতে এই টানা কর্মবিরতি চলবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমিতির ১১৭ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত সময় অনুসারে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি চলবে। উল্লেখ, ইতোমধ্যে তাদের এ দাবি নিয়ে আরো একাধিকবার কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম ফরিদ জানান, তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে ২০১১ সালেও প্রধানমন্ত্রী’র সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী একই বিষয়ে পুনঃ নির্দেশনা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সারা দেশে পুনরায় এ কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে বলে জানান, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম ফরিদ।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি নাজির স্বপন কান্তি পাল বলেন, সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলবে। ৩৩ বছর ধরে একই চেয়ারে, একই পদে বসে আছি। আমাদের পর বিভিন্ন দপ্তরে একই পদে চাকুরীতে যোগদান করে তাদের পদমর্যাদা ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরন করা হয়েছে। এ রকম দপ্তরের সংখ্যা ২০-২১ টি রয়েছে। অথচ তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আমাদের চেয়ে অনেক কম। দেশের হাজার হাজার কর্মচারি আমাদের মতো মর্যাদাহীন অবস্থায় ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বাধ্য হয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে চাকুরী করছেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণ হচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, আমরা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে অনেকবার আলটিমেটাম দিয়েছি। তাতেও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় টানা ১৬ দিন কর্ম বিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। এখন বুঝতে পারছি, “চেরাগ এর নিচে সবসময় অন্ধকার থাকে, সেঅন্ধকার দূর করতে টানা ১৬ দিনের কর্মবিরতিতে গিয়েছি”।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহে এমনিতেই কর্ম অনুযায়ী প্রচুর জনবল সংকট রয়েছে। তারমধ্যে, সারা দেশের মতো কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সদস্যদের কর্মবিরতির কারণে দাপ্তরিক কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটার আশংকা রয়েছে। সেবা প্রার্থীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে অসহায় হয়ে তাদের ফিরে যেতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •