cbn  

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বের বড় ফুটবল ক্লাবগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বার্সেলোনায়। গেটমানি থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রোজগার হতো, সেটি হচ্ছে না। কারণ খেলা হচ্ছে দর্শকশূন্য মাঠে। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতো ক্রীড়া পর্যটন থেকে। সেটি বন্ধ, কারণ করোনার মধ্যে ফুটবল পর্যটক আসছে না। আবার বানিজ্যিক চুক্তিটাও কমে গেছে। আর্থিক পৃষ্ঠপোষক (স্পনসর) সেভাবে আসছে না। বড় রকমের আর্থিক অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে বার্সেলোনাকে। কিন্তু ক্রীড়া বিপণন বিশেষজ্ঞ সিন্তো আইরাম মনে করেন করোনাভাইরাসের চেয়েও ক্লাবে লিওনেল মেসিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাই স্পনসরশিপ চুক্তিতে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে পাওয়া ৫৫ মিলিয়ন ইউরো নেমে দাঁড়িয়েছে ৩০ মিলিয়নে। বিরোধীপক্ষ ও সিংহভাগ সমর্থকের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে গত মাসে পদত্যাগ করেছেন বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। এই বার্তোমেউয়ের সময়েই বার্সেলোনার বিপণন প্রধান ছিলেন আইরাম। স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফইকে তিনি বলেছেন, ‘এটা সত্যি যে করোনাভাইরাস স্পনসরশিপ মানি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে, কারণ ব্র্যান্ডের দৃশ্যমান দরপতন হয়েছে। তবে রাকুটেনের সঙ্গে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর বর্তমান চুক্তিটি হলো ক্লাবে লিও মেসির ভবিষ্যৎ ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রতিক্রিয়া। এই মুহূর্তে আমার কাছে তো আরও সংশয় জাগে যে চুক্তিটির মূল্যমান ৩০ মিলিয়ন ইউরোর সমান কি না তা নিয়ে।’

জাপানের ই-কমার্স কোম্পানি রাকুটেন যখন বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি করে তখন ছিল ভিন্ন পরিস্থিতি। মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগে গাঁটছড়া বেঁধে লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার ফুটবলের পৃথিবীকেই বিমোহিত করে চলেছেন। ‘এমএসএন’ ত্রয়ী তখন বিশ্বের তাবৎ ক্লাবের কাছেই ভয়ঙ্কর। বার্সেলোনা নেইমারকে ধরে রাখতে পারলো না, ব্রাজিলিয়ান তারকা বিদায় নিলেন ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে। বার্সেলোনাকে উথালপাথাল করে দেওয়া গত গ্রীষ্মের শেষে সুয়ারেজকে বিদায় করে দেওয়া হলো অসম্মানজনকভাবে। এমএসএন-এর শুধু ‘এম’-ই আছেন। তাও তাকে নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। আইরাম বলেন, ‘বানিজ্যিকভাবে তারা(ত্রয়ী) ছিলেন বিশাল ব্যাপার, এখন বার্সেলোনা চুক্তি নবায়ন করতে চাইছে সুয়ারেজ ও নেইমারকে ছাড়া এবং মেসি থাকবেন কি না সে নিয়ে আছে সংশয়।’

‘আপনি যখন বার্সেলোনার ব্র্যান্ড বিক্রি করবেন বিশ্বজুড়ে, আপনি মেসির মুখটাই দেখাতে চাইবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ব্র্যান্ডই আরও তিন-চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে চাইবে না, কারণ তারা তো জানেই না নির্দিষ্ট ওই খেলোয়াড়টি ছাড়া ক্লাবের মূল্য কত।’

আইরামের বিশ্বাস, গত গ্রীষ্মের শেষে মেসি ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার কথাটা বলাতেই বার্সেলোনার ক্ষতি হয়েছে বেশি, ‘মেসি ক্লাব ছাড়ার কথাটা বলাতেই ক্ষতিটা হয়েছে বেশি। কারণ বা্র্সেলোনার অজস্র ভক্ত শুধু মেসির ভক্ত, যেমনটা রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে ঘটেছে। রোনালদোর ভক্ত বলেই তারা রিয়াল মাদ্রিদের ভক্ত ছিলেন, রোনালদো যেই মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে গেছেন,অমনি তারাও ক্লাব বদলেছেন।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •