অনলাইন ডেস্ক : গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে প্রায় দুই’শ বছর পর প্রথম মসজিদ উদ্বোধন করা হচ্ছে। করোনা মহামারী ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুক্রবার জুমার নামাজ পড়বেন মুসল্লিরা। মসজিদে একসঙ্গে ৩৫০ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।

গ্রিস ৫০ হাজার ৯৪৯ বর্গ মাইল আয়তনের দেশ। ২০১৯ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় ১ কোটি মানুষের বাস। যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটির অনুসারী। আর মোট জনসংখ্যার দেড় শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। যাদের বেশির ভাগ তুর্কি ও আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত। কিছু সংখ্যাক মুসল্লি রয়েছেন যারা গ্রিক বংশোদ্ভূত। গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত থ্রেস দেশটির সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং গোটা ইউরোপের মধ্যে থ্রেসই একমাত্র অঞ্চল যেখানে শরীয়আহ আইন চালু রয়েছে।
গ্রিক সরকারের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণে প্রায় ৮ লাখ ৮৭ হাজার ইউরো খরচ হয়েছে। ২০১৬ সালে চূড়ান্তভাবে এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৭ সালের নির্মাণকাজ শেষ হয়। মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ভোতানিকোস। তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
১৯২৩ সালের লুজার্ন চুক্তির ফলে গ্রিসের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ তুরস্কে চলে যেতে হয়। বিপরীতক্রমে, তুরস্ক তথা এশিয়ান মাইনর অঞ্চলে ববসাস করা খ্রিস্টান ও ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বী মানুষদেরকে গ্রিসে স্থানান্তর করা হয়। সত্তরের দশকের পর থেকে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই অভিবাসী হিসেবে গ্রিসে পাড়ি জমাচ্ছেন যাদের মাঝে একটি বড় অংশের মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। এরপর ১৮৩৩ ও ১৮৯০ সালে এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা চললেও ডানপস্থী ও রক্ষণশীল খ্রিস্টানদের কারণে মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। অবশেষে মুসল্লিদের জন্য সরকারিভাবে এথেন্সে একটি মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •