১২ নভেম্বর “দৈনিক কক্সবাজার বার্তা, সমুদ্র কন্ঠ, আমাদের কক্সবাজার ও গণসংযোগ পত্রিকাসহ ” আরো কয়েকটি গণমাধ্যামে কাউন্সিলর মিজানসহ পাঁচ জনের সিন্ডিকেটে ৫ লাখ ইয়াবা” ও অন্যান্য শিরোনামে আমাকে জড়িয়ে শীর্ষক সংবাদগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত শিরোনামে সাংবাদগুলোতে আমাকে জড়ানো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপসূত তথ্য উপস্থানপন করা হয়েছে। শুধুমাত্র আমার জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু প্রতিপক্ষ লোকজন আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রায়স মাত্র। যে হেতু মাদক একটি স্পর্ষ্পকতর বিষয় হওয়ায় এটিকে পুঁজি করা মাত্র।

আমি প্রতিবাদকারী মিজানের বক্তব্য হলো- “(১১ নভেম্বর) বুধবার নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের পূর্বে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই দস্তগীর ও এসআই হালিম সকাল ৯টার দিকে আমাকে ফোন দেয়। এতে আমি তাৎক্ষণিক তাদের ফোনে সাড়া দিয়ে মমতাজের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি মমতাজের বাড়িটি (অর্থাৎ আমার বোনের জামাই’র বাড়ি) পুলিশ ঘেরাও করে রাখছে। তখন ঐ মূহুর্তে আমি পুলিশকে বলি আপনারা বাড়ি তাল্লাশি চালান আমি আপনাদের সাথে থেকে সবধরনের সহযোগিতা করবো। অভিযানের এক পর্যায়ে বাড়ির একটি কক্ষে জালে মোড়ানো ৬০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমের সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত হলেন। ঐ সময় সরকারি কাজে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অভিযানে সবধরনের সহযোগিতা করি এবং গণমাধ্যমের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে আমার দায়িবদ্ধতা আমি সেখানে পরিষ্কার করি।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সেখানে যে সাংবাদিক ভাইয়েরা উপস্থিত ছিলো তাদের পেশার নীতি নৈতিকতা রক্ষা করে তাঁরা বাস্তব ঘটনাটি তুলে ধরেছে। আর যারা সেখানে উপস্থিত ছিলোনা তাঁরা এলাকার কিছু কুচক্রি মহলের ইন্দনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিভাবে পত্রিকায় আমার ছবি দিয়ে, যেন আমার ঘর কিংবা আমার শরীর থেকে ইয়াবা উদ্ধার হওয়ার মতো একটি জঘন্য মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে যা খুবই দুঃখজনক ও আইনবহিঃভূত। সংবাদে তাঁরা আরো উল্লেখ করেছে আমি মিজান ও আমার ভগ্নপতি মমতাজের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, মমতাজ আমার ভগ্নপতি এটি সঠিক। কিন্তু বর্তমান যুগে যেখানে নিজের ছেলেকে বাপ-মায়েরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সেখানে বোনের জামাইতো অনেক দূরের কথা। সে তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যস্ত, আমি আমার পেশাগতজীবন ও পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যস্ত। কে কি করছে তা আমার জানার বিষয়ও না। সুতরাং সেখানে আমাকে জড়ানো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক, অলিক ও আবান্তর। তবে আমি ঐদিন অভিযানের সময়ও বলে দিয়েছি এখনো বলতে চাই আমার বোনের জামাই যদি মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার প্রামাণ মিলে এবং সেখানে যদি প্রমাণস্বুরুপ আমার সম্পৃক্তাও পাওয়া যায় তাহলে আইনিভাবে আমাকে যে শাস্তি দেবে, সে শাস্তি আমি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। এছাড়া আমি আমার জনগনকে সাথে নিয়ে খোলা মাঠে এসে জনপ্রতিনিধির পদ থেকেও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো।

মিথ্যা সংবাদে আরো উল্লেখ করেছে, মাদক বিরোধী অভিযানে আমি আতœগোপনে ছিলাম, অথচ মাদক অভিযানে এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে মাদক কারবারী, মাদকসেবী ও বখাটেদের ধরে ধরে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। যা বিভিন্ন সামজিক মাধ্যম ফেইবুকেও ভাইরালও হয়েছ। আর যেখানে এলাকার মানুষের সেবা ছাড়া এক সপ্তাহও জীবনে বাহিরে অবস্থান করিনি, অথচ আমি আত্মগোপনে থাকা সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। বরং এলাকায় দেশ ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িতদের ব্যাপারে সবময় আমি তৎপর ছিলাম ও আছি এটাই বাস্তবতা।

শুধু তা নই, সংবাদগুলোতে আরো বলা হয়েছে, সেলিম, মমতাজ মিয়া, আমিন,নুরু, গুরামিয়া লালুসহ আমাকে জড়িয়ে যে একটি সিন্ডিকেটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এটাও কল্পনাপসূত এবং ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমি বলতে চাই, ওরা কে কি করে সেটা আমার বিষয় না। সেটা আইন শৃঙ্খলাবহিনী তদন্তের মাধ্যমে বের করবে। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই গত ১০ বছরসহ আজ পর্যন্ত আমার মোবাইল নাম্বারের কল রেকর্ড বের করে দেখেন তাদের সাথে অবৈধ কোন বিষয়ে কথা হয়েছে কি না। শুধু মোবাইলে নয় শাররীকভাবেও হয়েছে কিনা এবং কোন চায়ের টেবিলে কিংবা কোন জায়গায় উঠা-বসা হয়েছে কিনা, তার প্রমাণ দিতে পারলে আমি যা শস্তি পেতে হয় হাসিমুখে মেনে নেবো।

সংবাদের আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আমি ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা গায়েব করেছি, এ ব্যাপারে আইনশৃঙখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমার বাড়ি, ও অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালান, নজদারি বৃদ্ধি করুন। যদি তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমাকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্রসফায়ার দেন।

আর আমি আমার মৃত বাপ-মায়ের কসম খেয়ে বলছি মাদকের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এটি প্রমাণের সংশ্লি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিক ভাইদের প্রতি চ্যালেংঞ্জ ঘোষণা করছি। শুধু মাত্র এলাকার কিছু কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার আমি। আর উক্ত শিরোনামে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকগণ “ কোন প্রমাণ ছাড়া আমার ছবি দিয়ে আমার ব্যাপারে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে সাংবাদিকতার কোন আইন বা বিধিমালায় আছে কি না আমার বোধগম্য নয়।

“পরিশেষে বলতে চাই, আমি একজন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের ছেলে। এলাকার আপামর জনসাধারণ তাদের দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে তাঁরা আমাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে দু’দুবার। তাই তাদের কাছে আমার অনেক দায়বদ্ধতা আছে। এ দায়িবদ্ধতা থেকে এলাকায় সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডকারীদের বিরুদ্ধে কিছু করতেই গেলে তারা আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এটিও তার একটি বাস্তবতা। আর এলাকায় আমার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নযজ্ঞ চলছে। তাই সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আপনাদের মতো আমারও পরিবার পরিজন রয়েছে, আত্মসম্মান রয়েছে। সুতরাং আপনারা সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করুন। এতে দেশ-সমাজ উপকৃত হবে। না হয় আপনাদের একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদে দেশের যুব সমাজ ও একটি পরিবার বিপদগ্রস্তের দিকে পথিত হবে। আর আপনারা সমাজের দর্পণ। এছাড়া প্রচলিত আছে আপনাদের কলমের কালি শহীদের রক্ষের চেয়েও পবিত্র। সুতরাং এ পবিত্র কালি বস্তুনিষ্ঠ হউক সেটা আমার প্রত্যাশা। আপনাদের প্রতি আমার সমসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান আমৃত্যু। সুতরাং এর পরেও যদি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাবো।

আর আমাকে জড়িয়ে যে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে এতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সম্মানিত এলাকাবাসি কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমার প্রতিপক্ষ কিছু লোকজন আমার বাড়িতে মাদকসহ অবৈধ জিনিস ঢুকায়ে দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর নানা পাঁয়তারা চালাচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি-ধুমকিও দিচ্ছে। এতে রীতিমতো পরিবার নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠায় আছি। বিষয়টি আমি আইনশৃঙখলা বাহিনীসহ সাংবাদিক ভাইদেরও প্রতিও অবগত করে রাখলাম।

প্রতিবাদকারী
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কক্সবাজার পৌরসভা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •