বিশেষ প্রতিবেদক:
(বুধবার)১০ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকা থেকে ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজনকে আটকের ঘটনা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজন এই অভিযোগ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, এই চালানের সাথে আরো যারা জড়িত তাদের বাদ দিয়ে নিরীহ লোকজনকে আসামী করার অপচেষ্টা করছে। স্থানীয় কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই অপচেষ্টার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর-উল-গীয়াস জানিয়েছেন, কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকায় সাগরপথে পাচার হয়ে আসা ইয়াবার বড় একটি চালান মজুদের খবরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার মমতাজ মিয়ার টিনশেড ভাড়া বাসার একটি কক্ষে মাছ ধরার জালে প্যাঁচানো অবস্থায় রাখা একটি ছোট বস্তার ভিতরে ৬টি পলিথিন মোড়ানো প্যাকেট পাওয়া যায়। এসময় বাসায় অব্স্থানকারি ২ জনকে আটক করা হলেও আরো ২/৩ জন পালিয়ে যায়। ওই প্যাকেটগুলোতে ৬০ হাজার ইয়াবা ছিলো। আটকরা হল, কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার মৃত আহমদ ছফার ছেলে ফিরোজ খান (২৬) ও ফিশারী ঘাট এলাকার মোহাম্মদ মাকছুদের ছেলে মোহাম্মদ সুমন (২৫)।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে অনেকে অভিযোগ করেছেন, এই চালান উদ্ধার হওয়া বাড়িটি কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের ভগ্নি মমতাজ মিয়ার বাড়ি। এই ঘটনা চালানের সাথে মমতাজ মিয়াও জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু তাকে বাঁচাতে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত কাউন্সিলর মিজান এই ঘটনার মামলায় এলাকার নিরীহ ও তার প্রতিপক্ষের লোকজনকে আসামী করার জন্য দেনদরবার করছে। তিনি পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে ঘটনা সাথে প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে নিরীহ লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, এই বিশাল ইয়াবা চালানের সাথে কারা জড়িত সেটা পুলিশ সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। কাউন্সিলরসহ আরো কারো প্ররোচনায় না শুনে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হোক। সেখানে কোনোভাবেই যেন নিরীহ লোকজন আসামী না হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর-উল-গীয়াসের প্রতি তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তা নাকচ করে দিয়েছেন কাউন্সিলর মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমি ইয়াবার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেবো না। তাদের রোধ করতে যা যা করার দরকার সব করবো। আমা্র ভগ্নিপতি মমতাজ যদি এই ঘটনায় জড়িত থাকে তা প্রমাণ পেলে পুলিশকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। এছাড়া কাউকে রক্ষা বা ফাঁসানো নিয়ে যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে তা জঘন্য মিথ্যাচার। এই নিয়ে পুলিশের কোনো অফিসারের সাথে কথা হয়েছে তা প্রমাণের জন্য আমার মোবাইল কললিষ্ট চেক করা হোক অথবা দেখা করেছি কিনাও যাচাই করা হোক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •