চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

বখাটে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বৃদ্ধ বাবা-মা। অমানবিক অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া চার মাস। অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনাকি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন নিমতলা এলাকায়।

ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রায় সময় মা বাবাকে গালিগালাজ করে মারধর জখম করেন। সহায় সম্পদ জোর করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অবাধ্য ও উচ্ছশৃঙ্খল এই সন্তানের নির্যাতন থেকে প্রতিকার পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বন্দর এলাকার হাশেম মেম্বার বাড়ির আলহাজ্ব মােহাম্মদ হাসেম। অভিযোগ পেয়ে সিএমপি কমিশনারকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশও দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি।

কিন্তু তাতেও প্রতিকার মিলেনি। বরং এলাকাবাসীর অভিযোগ মােহাম্মদ হাসেমের ছেলে প্রায়শই বাবা মাকে মারধর করত। বাবা মা ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক দিন ঘরের বাহিরে ছিলেন।

গত ৯ নভেম্বর (সোমবার) মা সৈয়দা নুরুন ন্নেছা (৬০) বাদি হয়ে ছেলে মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অপর আসামিরা হলেন-সুমাইয়া শওকত চৌধুরী (২৭), শওকত আহাম্মদ চৌধুরী (৪৮), নেজাম উদ্দিন (৪৮) ও সৈয়দা নুর জাহান মুন্নি (৪০)।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মা বাবাকে মারধরের ঘটনায় মা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং-০৬/২৬৬।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ইন্সপেক্টর) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অসহায় পিতা আলহাজ্ব মােহাম্মদ হাশেম এর একমাত্র ছেলে মােহাম্মদ (৩০) বেসামাল জীবন যাপনে অভ্যস্ত। ছেলের অবাধ্য চালচলনে বাধা দিলে জন্মদাতা পিতা ও গর্ভধারিণী মাতাকে শারীরিকভাবে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। গত ৪ মাস যাবত তাঁরা বাড়ির বাহিরে রয়েছেন। ফলে শীতের প্রকোপে অসহায় বৃদ্ধারা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পরে বৃদ্ধ দম্পতি বাড়ি যেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে থানায় মামলায় করেছেন।

মা সৈয়দা নুরুন ন্নেছা (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বলতে লজ্জা লাগে। কেমন ছেলে পেটে ধরলাম। আজ ৪ মাস যাবত বাড়িতে যেতে পারিনা। স্থানীয় পুলিশের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও তেমন কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না।

ভুক্তভোগিরা সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এর সাথে দেখাও করেন। অভিযোগ পেয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অসহায় পিতা মাতাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সিএমপি পুলিশ।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •