হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২০ জানুয়ারি। এরপর সাদা বাড়ির দখল ছেড়ে দিতে হবে নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। কিন্তু তারপর কী করবেন তিনি?

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক টিম কালকিনস বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেক নিয়ম ভেঙেছেন। সুতরাং, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই, তিনি এযাবৎ দেখা সাবেক প্রেসিডেন্টদের মতোই আচরণ করবেন।

আবারও নির্বাচন করবেন
এবারের নির্বাচনে পরাজয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ না-ও হতে পারে। গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের মতো চার বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের দখল নিতে পারেন তিনি।

ক্লিভল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি চার বছর বাইরে কাটিয়ে ফের হোয়াইট হাউসে ফিরেছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের পর ১৮৯৩ সালের নির্বাচনে জিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

সাবেক সহকর্মীদের মতে, ট্রাম্পও সেই পথেই হাঁটতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক চিফ অব স্টাফ মিক মুলভানে সম্প্রতি বলেছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিনি ট্রাম্পকে অবশ্যই রাখবেন।

এছাড়া, এবারের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হারলেও ৭ কোটি ১৫ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা দেশটির ইতিহাসে কোনও পরাজিত প্রার্থীর জন্য রেকর্ড। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে জনগণের মধ্যে এখনও বিপুল সমর্থন রয়েছে তার।

ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করবেন
রাজনীতিতে যোগ দেয়ার আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়মাপের আবাসন ব্যবসায়ী বা রিয়েল স্টেট মোগল। পাশাপাশি, টেলিভিশনে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো’র উপস্থাপক, নিজের নাম ব্যবহার করে অসংখ্য লাইসেন্সিং ডিল (নিবন্ধন চুক্তি) থেকেও বিপুল অর্থ কামাতেন তিনি।

চার বছর আগে এসব অবস্থান যেখানে রেখে এসেছিলেন, হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সেখান থেকেই ফের শুর করতে পারেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প অরগানাইজেশনের মালিকানায় রয়েছে অনেকগুলো বিলাসবহুল হোটেল ও গলফ কোর্স। ওয়াশিংটন ডিসির পাশাপাশি তার সম্পত্তি রয়েছে মুম্বাই, ইস্তানবুল ও ফিলিপাইনে। গলফ কোর্স রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দুবাই ও ইন্দোনেশিয়ায়।

তবে, আগামী জানুয়ারি থেকে যদি এদিকেই যাত্রা শুরু করেন ট্রাম্প, সেক্ষেত্রে তার সামনে বেশ কঠিন পথই অপেক্ষা করছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভ্রমণ ও অবকাশ শিল্প সংশ্লিষ্ট তার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই চরম সংকটে রয়েছে।

ফোর্বসের তথ্যমতে, করোনার কারণে ট্রাম্পের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মিডিয়া মোগলের মুকুট ধারণ
প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই টেলিভিশনে পরিচিত মুখ ডোনাল্ড ট্রাম্প । রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টাইস’ থেকে বিপুল অর্থ আয় করেছেন তিনি।

এ কারণে অনেকেরই ধারণা, আবারও মিডিয়াতেই ফিরতে পারেন এ ধনকুবের। রক্ষণশীল যেকোনও গণমাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন, আবারও নিজেই নতুন কোনও মিডিয়া চালু করে সেখানেও যোগ দিতে পারেন তিনি।

কিউ স্কোর কোম্পানির নির্বাহী সহ-সভাপতি হেনরি শ্যাফার বলেন, ট্রাম্পের অবশ্যই সম্ভাব্য দর্শক থাকবে। বিতর্কেই তার উন্নতি। তিনি বিতর্ককে নিজের লাভে পরিণত করেন। এটাই তার কাজের ধরন।

প্রেসিডেন্সিয়াল অবসর
হোয়াউট হাউস ছাড়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেশ কিছু সুবিধা পাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৮ সালের এক আইন অনুসারে, বার্ষিক ২ লাখ ৭ হাজার ৮০০ ডলার (২০১৭ সালের হিসাব) পেনশন পান সাবেক প্রেসিডেন্টরা।

এছাড়াও তারা আজীবন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, ভ্রমণ ব্যয় এবং কর্মীদের বেতন সুবিধাও পেয়ে থাকেন।

ট্রাম্পের বয়স এখন ৭৪ বছর। ফলে অবসরে গিয়ে তিনি এসব আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে পারেন।

তবে অধ্যাপক কালকিনসের মতে, ট্রাম্প আসলে অবসর নেয়ার মতো লোক নন। তিনি সারাজীবনই লাইমলাইটে থাকতে চান।

আবার গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছিলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তার এত বেশি খারাপ লাগবে যে, হয়তো এর জন্য তিনি নিজের দেশ ছেড়েও চলে যেতে পারেন।

সুতরাং, শেষপর্যন্ত ট্রাম্প যে কী করবেন, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •