মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার ডিসি কলেজের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কহিউর আক্তার প্রকাশ কহিনুরের মৃত্যু পূর্ববর্তী তার চিকিৎসা সেবা নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠা গুরতর অভিযোগ তদন্তে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা’কে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও ডিডিএলজি শ্রাবস্তি রায় মঙ্গলবার ৯ নভেম্বর এক আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। বিশ্বস্ত সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যদ্বয় হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান এবং কক্সবাজার পৌর এলাকায় করোনা কন্ট্রাক ট্রেসিং টিমের সন্বয়কারী ও জেলা করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম।

কহিউর আক্তারের মৃত্যু পূর্ববর্তী মুমূর্ষু অবস্থায় তার চিকিৎসা নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সে সময়ে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা, অনিয়ম, গাফেলতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে মৃত কহিউর আক্তারের স্বামী ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কর্তৃক কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে গত ১ নভেম্বর করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার ডিসি কলেজের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কহিউর আক্তার (২৯) গত ৩০ অক্টোবর ভোর রাত ৪ টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। কহিউর আক্তার এর শরীরে গত ২৯অক্টোবর করোনা সনাক্ত করা হয়েছিলো। মৃত্যুকালে কহিউর আক্তারের মাত্র ১৮ দিনের পুত্র সন্তান সোয়াত ইবনে মিজান, প্রথম কন্যা বাছিন বিনতে মিজান (৭) কক্সবাজার কেজি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং তার রোল নম্বর ২ এবং কনিষ্ঠ কন্যা সাবা বিনতে মিজান এর বয়স ৫ বছর। সোয়াত ইবনে মিজান গত ১২ অক্টোবর ডুলাহাজারা খৃষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে জন্মলাভ করে। মরহুমা কহিউর আক্তার ছোট মহেশখালীর দক্ষিণ নলবিলা গ্রামের আহমদ আলী ও কুলসুমা বেগমের কন্যা। অপরদিকে, কহিউর আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মহেশখালীর শাপলাপুরের মৌলভীকাটা গ্রামের মৃত জিয়াবুল হাসানের পুত্র। জেলা প্রশাসকের বাংলোর সিএ টু ডিসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকায় বসবাস করেন।